মিয়ানমারের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিস্ফোরণে হতাহত অন্তত ১১৬

ভয়াবহ এই বিস্ফোরণে বিপুলসংখ্যক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা
বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা |সংগৃহীত

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে রোববার এক বিস্ফোরণে অন্তত ১১৬ জন হতাহত হয়েছে। দুইজন উদ্ধারকর্মী এ তথ্য জানায়।

অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণে থাকা বিদ্রোহীরা বলেছে, খনি উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরকের বিস্ফোরণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল শান রাজ্যের নামকাম জেলার এক উদ্ধারকর্মী জানান, এতে ছয় শিশুসহ ৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৭০ জনের বেশি।

তিনি আরো বলেন, ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ির নিচে আরো লাশ থাকতে পারে।’

অপর এক উদ্ধারকর্মী নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, মৃতের সংখ্যা আরো বেশি।

তার তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় ৫৯ জন নিহত হয়েছেন। জরুরি সেবা কর্মীরা লাশ সংগ্রহ করে সৎকারের জন্য নিয়ে গেছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা ওই জরুরি কর্মী জানান, ভয়াবহ এই বিস্ফোরণে বিপুলসংখ্যক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে টিএনএলএ বলেছে, ‘এই বিস্ফোরণের কারণে বহু স্থানীয় বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তথাকথিত ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের’ সদস্য টিএনএলএ, আরাকান আর্মি (এএ) ও মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ) নিয়ে গঠিত (এমএনডিএএ) ২০২৪ সালের শুরুতে চীনের মধ্যস্থতায় সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

তবে ওই বছরের জুন মাসে, টিএনএলএ শান রাজ্য ও পার্শ্ববর্তী মান্দালয় অঞ্চলে নতুন করে হামলা শুরু করে।

সেই গ্রীষ্মে বিদ্রোহীরা উত্তরের রুবি-খনির শহর মোগোক দখল করে নেয়, যেখানে টিএনএলএ বিরোধী পক্ষের আক্রমণ পরিচালনা করে।

পরে গত বছরের অক্টোবরে টিএনএলএ জানায়, চীনের মধ্যস্থতায় তারা মোগোক থেকে সরে যেতে সম্মত হয়েছে।

সূত্র : এএফপি/বাসস