হিজবুল্লাহর সব ধরনের হামলা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার শর্তে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে ইসরাইল ও লেবানন সম্মত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সমঝোতা অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সরে যেতে হবে। একইসাথে দুই দেশ একটি বিস্তৃত চুক্তির লক্ষ্যে চলতি মাসে আবারো আলোচনায় বসবে।
এই ঘোষণা এমন এক সময় এলো, যখন দক্ষিণ লেবাননে বুধবার (৩ জুন) ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে নয়জন নিহত হন এবং এর জবাবে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরাইলে রকেট নিক্ষেপ করে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দু’জন প্যারামেডিকও ছিলেন। তাদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সে সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বিমান ও ড্রোন হামলায় সিরীয়, ফিলিস্তিনি ও লেবানিজ নাগরিক হতাহত হন।
অন্যদিকে ইসরাইলের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা সীমান্ত অতিক্রম করা একটি ড্রোন ও দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
হিজবুল্লাহ জানায়, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে উত্তর ইসরাইলে অবস্থানরত ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে তারা।
এর আগে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলার কথাও জানায় সংগঠনটি।
লেবাননের সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, তাদের সদস্য, যানবাহন ও অবস্থান লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। একটি বিমান হামলায় এক লেবানিজ সেনা নিহত হন এবং পৃথক আরেক হামলায় দুই সেনা আহত হন।
হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মাহমুদ কামাতি বলেন, ওয়াশিংটনে হওয়া লেবানন-ইসরাইল আলোচনার সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। সংগঠনটি এসব আলোচনার ফলাফল স্বীকার করে না।
একই সময়ে বৈরুতে বাস্তুচ্যুত মানুষেরা পুরো লেবাননজুড়ে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ইরান জোর দিয়ে বলেছে, আঞ্চলিক যে কোনো যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেন, বৈরুতের বিরুদ্ধে ইসরাইলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আবারো যুদ্ধে ফেরার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাকে লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর যুদ্ধসংক্রান্ত আলোচনা থেকে আলাদা রাখতে চান।
তার ভাষায়, ইরানকে ঘিরে আলোচনা এবং লেবাননের যুদ্ধ দু’টি পৃথক বিষয়, তাই তিনি সেগুলোকে আলাদাভাবে এগিয়ে নিতে চান।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এগুলোকে আলাদা রাখতে চাই। আমি চাই এ নিয়ে আলাদা প্রক্রিয়া থাকুক, কারণ এটি আসলে পৃথক বিষয়।’
দীর্ঘ দিনের সঙ্ঘাতে লেবাননে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো ইসরাইলি হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি



