সাগরে ক্লান্ত মার্কিন রণতরী ফোর্ড এবার ঘরের পথে

মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই রণক্লান্ত এই দানবীয় জাহাজটিকে ফিরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলো মার্কিন প্রশাসন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড
ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড |সংগৃহীত

দীর্ঘ ৩০০ দিনের বেশি সময় ধরে সাগরে দাপিয়ে বেড়ানো বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাচ্ছে।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ভেনিজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে বন্দী করা এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়ার পর মোতায়েন শেষে রেকর্ড গড়া এই যুদ্ধজাহাজটি এখন ঘরের পথ ধরেছে।

মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই রণক্লান্ত এই দানবীয় জাহাজটিকে ফিরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলো মার্কিন প্রশাসন।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এটি মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে ভার্জিনিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবে এবং মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে নিজ বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভিয়েতনাম যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এটিই কোনো মার্কিন রণতরীর দীর্ঘতম মোতায়েন। এর আগে ২০২০ সালে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২৯৪ দিন সাগরে ছিল, কিন্তু ফোর্ড সেই রেকর্ড ভেঙেছে। তবে এই দীর্ঘ যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না।

গত অক্টোবরে ক্যারিবিয়ানে শক্তি প্রদর্শনের পর এটিকে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়। সেখানে যুদ্ধ চলাকালীন লোহিত সাগরে প্রবেশের পর হঠাৎ জাহাজের লন্ড্রি রুমে আগুন লাগে। এতে কয়েক শ’ নাবিকের থাকার জায়গা পুড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের মেরামতের প্রয়োজনে জাহাজটিকে আবারো ভূমধ্যসাগরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় মার্কিন নৌবাহিনী।

পেন্টাগনের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সাউথকম এবং সেন্টকমের অপারেশনাল চাপ সামলাতে গিয়েই এই দফায় দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে টানা ১০ মাস পরিবার থেকে দূরে থাকা নাবিকদের মানসিক অবস্থা এবং জাহাজের যান্ত্রিক সক্ষমতা নিয়ে খোদ মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগেই এখন প্রশ্ন উঠছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন, এই দীর্ঘ মোতায়েনের ফলে জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ এবং যুদ্ধের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বেশ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং আব্রাহাম লিংকনের উপস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে তিনটি বিমানবাহী রণতরীর জটলা তৈরি হলেও ফোর্ডের বিদায় নিশ্চিতভাবেই ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক চাপের ভারসাম্যকে নতুন সমীকরণের মুখে দাঁড় করাবে।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান