ভ্যাটিকান ও রোম সফরে যাবেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সপ্তাহে রোম ও ভ্যাটিকান সফর করবেন বলে জানা গেছে। ইতালী সরকারের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সপ্তাহে রোম ও ভ্যাটিকান সফর করবেন বলে জানা গেছে। ইতালী সরকারের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পোপ লিও’র মধ্যে সাম্প্রতিক বিরোধের কয়েক সপ্তাহ পরই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ইতালীর গণমাধ্যম রোববার (৩ মে) রুবিওর সফরকে সম্পর্কের বরফ গলানোর একটি বৈঠক হিসেবে তুলে ধরেছে।

ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী রুবিও ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিয়েত্রো পারোলিন ও ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানির সাথে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইতালীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের এই সফরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেত্তোর সাথেও বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্যাথলিক নেতা পোপ চতুর্দশ লিও’র যুদ্ধবিরোধী বক্তব্যের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চরম সমালোচনার কয়েক সপ্তাহ পরেই এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

পোপের পক্ষ সমর্থন করায়, ট্রাম্প ‘সাহসের অভাব রয়েছে’ বলে তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্র ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিরও সমালোচনা করেন।

২০২৫ সালের ৮ মে পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর বিশ্বের ১৪০ কোটি ক্যাথলিকের নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে পোপ লিও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে আসছেন।

তবে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল আক্রমণের পর, তার ক্রমবর্ধমান যুদ্ধবিরোধী অবস্থানই ট্রাম্পের ক্ষোভের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এপ্রিলের ৭ তারিখে পোপ লিও ট্রাম্পের ইরান ধ্বংসের হুমকিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা তাদের আইনপ্রণেতাদের শান্তির জন্য কাজ করতে চাপ দেন।

এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে পোপকে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য ক্ষতিকর’ বলে তীব্র সমালোচনা করেন।

ট্রাম্প আরো বলেন যে, তিনি ‘পোপ লিও-র খুব একটা ভক্ত নন’ এবং তিনি এমন কোনো পোপ চান না, যিনি মনে করেন যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকাটা ঠিক আছে।

মেলোনিও ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানান, যা পরে ট্রাম্পকে তার বিরুদ্ধেও ক্ষুব্ধ করে তোলে।

ইতালীয় দৈনিক করিয়েরে দেল্লা সেরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি তার ব্যাপারে হতবাক। আমি ভেবেছিলাম তার সাহস আছে। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।’

তিনি আরো অভিযোগ করেন, মেলোনি যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো বিষয়ে যথেষ্ট সহযোগিতা করেননি।

ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন যে, ‘তিনি ইতালিতে থাকা মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে পারেন, কারণ রোম ‘ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেনি।’

এর আগে তিনি স্পেনের বিরুদ্ধেও একই ধরনের হুমকি দিয়েছেন। পাশাপাশি পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে।

সূত্র: বাসস