মেক্সিকোর চিহুয়াহুয়ায় গত রোববার (১৯ এপ্রিল) ভোরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মার্কিন সিআইএ কর্মকর্তা ও দুই স্থানীয় কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। একটি গোপন মাদক ল্যাব ধ্বংসের অভিযান থেকে ফেরার পথে তাদের গাড়িটি খাদে পড়ে বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনাটি মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার নিরাপত্তা সহযোগিতার আড়ালে থাকা গোপন তৎপরতাকে সামনে এনেছে।
সোমবার মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম বলেছেন, ফেডারেল সরকারের অনুমতি ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের সাথে মার্কিন কর্মকর্তাদের এমন কোনো যৌথ কর্মকাণ্ড আইনত দণ্ডনীয়।
তিনি এই ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছেন এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।
শিনবাউমের দাবি, তার নিরাপত্তা ক্যাবিনেট এই অভিযানের বিষয়ে কিছুই জানত না। মূলত একটি ড্রোন অভিযানের মাধ্যমে মাদক ল্যাব শনাক্ত করার পর সেটি ধ্বংস করে ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে।
মার্কিন দূতাবাস নিহতদের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রাখলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে মেক্সিকান কার্টেল দমনে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে এমন গোপন উপস্থিতি শিনবাউম সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসন যখন মেক্সিকোর মাদক গ্যাংগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে সরাসরি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তখন সিআইএ কর্মকর্তাদের এভাবে মাঠে থাকা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বড় বির্তক উসকে দিয়েছে।
পুরো ঘটনাটি নিয়ে মেক্সিকোর ভেতরেই এখন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন প্রথমে একে রুটিন প্রশিক্ষণ বললেও সিআইএ সংশ্লিষ্টতার তথ্য ফাঁস হওয়ার পর তারা পিছু হটেছে।
শিনবাউম জোর দিয়ে বলেছেন যে, মেক্সিকোর জমিতে বা আকাশে বর্তমানে কোনো যৌথ সামরিক অভিযান চলছে না, কেবল তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে।
যেখানে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক আলোচনা চলছে, সেখানে এই দুর্ঘটনা প্রতিবেশী রাষ্ট্র দু’টির মধ্যকার আস্থার ফাটলকেই প্রকটভাবে প্রকাশ করছে। মেক্সিকো সরকার এখন তদন্ত করে দেখছে যে, সংবিধান লঙ্ঘন করে মার্কিন গোয়েন্দারা ঠিক কতদূর পর্যন্ত তাদের জাল বিস্তার করেছে।
সূত্র: এপি



