যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সাথে আলোচনা ‘খুব ভালোভাবে’ এগোচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শেষে এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে।
বুধবার (৩ জুন) ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘যতদূর শুনছি, আলোচনা প্রক্রিয়া আসলে খুব ভালোই চলছে।’
সম্ভাব্য কোনো চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সপ্তাহের শেষেই হতে পারে।’
তবে ট্রাম্পের এই মূল্যায়নের সাথে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বক্তব্যের।
আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগের পথ এখনো খোলা রয়েছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে চলমান আলোচনায় ‘কোনো বাস্তব অগ্রগতি’ হয়নি।
ট্রাম্প বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা এবং লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর সঙ্ঘাত নিয়ে আলোচনা তিনি আলাদা রাখতে চান।
তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়গুলো আলাদা রাখতে চাই। কারণ এগুলো আলাদা বিষয়।’
লেবাননের সঙ্ঘাত বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো হিজবুল্লাহর সাথে কথা বলেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘গতকাল তারা সম্মত হয়েছে যে তারা গুলি চালাবে না, ইসরাইলও গুলি চালাবে না। এখন আমরা সেখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব।’
যুক্তরাষ্ট্র জানায়, গতরাতে তারা ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং একটি ইরানি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ওপর হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, তেহরানের বাহিনী কয়েকটি উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা বিশ্বের অন্য একটি অঞ্চল। আমার মতে, ওই অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি মানে হলো তুলনামূলকভাবে সংযতভাবে গুলি চালানো।’
ইরানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ঘটনারই একটি কারণ আছে। আগের রাতে ও গত রাতেও আমরা তাদের ওপর বেশ জোরালো হামলা চালিয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে ব্যাখ্যা করা হলে আমি বলেছিলাম, ‘ঠিক আছে।’
গত এপ্রিলের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে আর লেবাননে যুদ্ধবিরতি শুরু হয় ওই মাসের মাঝামাঝি সময়ে।
তবে তা সত্ত্বেও সঙ্ঘাতে জড়িত বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: বাসস



