মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের প্রেস অফিসে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় সোমবার পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজ এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটন পোস্ট এই খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগন কর্তৃপক্ষ তাদের প্রেস অফিসকে একটি স্পর্শকাতর ও অতি গোপনীয় এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর ফলে সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর এক নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। অতীতের যেকোনো সরকারের আমলের চেয়ে এটি সম্পূর্ণ বিপরীত এক চিত্র। আগে পেন্টাগনের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অফিসটি একটি উন্মুক্ত কাজের জায়গা ছিল। সেখানে সাংবাদিকরা কোনো নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই অনায়াসে সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারতেন এবং নিজেদের প্রশ্নের জবাব খুঁজে নিতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্বে সেই চেনা পরিবেশ রাতারাতি বদলে গেছে।
কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, বেশ কয়েকজন স্পিচরাইটারকে এই প্রেস অফিসে স্থানান্তর করার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই লেখকেরা নিয়মিত বিভিন্ন গোপন ও স্পর্শকাতর নথিপত্র নিয়ে কাজ করেন। তাদের সুবিধার জন্য ওই দফতরে সিক্রেট ইন্টারনেট প্রোটোকল রাউটার নেটওয়ার্ক নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে গোপন যোগাযোগের জন্য কর্মকর্তাদের এখন আর অন্য কোনো নিরাপদ কক্ষে যেতে হবে না।
পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, স্পিচরাইটারদের এই গোপনীয়তার স্বার্থেই সাংবাদিকদের জন্য এই কক্ষের দরজা চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হলো। তবে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করার জন্য আগে থেকে অনুমতি নিয়ে রাখা যাবে।
পেন্টাগনের এ পদক্ষেপটি মূলত সংবাদমাধ্যমের সাথে তাদের চলমান আইনি লড়াই ও বিরোধেরই একটি অংশ। এর আগে, গত বছরের অক্টোবরে কয়েক শ’ সাংবাদিক পেন্টাগনের একটি বিতর্কিত নীতি মেনে নিতে অস্বীকার করেছিলেন। সেই নীতিতে বলা হয়েছিল, কর্তৃপক্ষ অনুমতি না দিলে কোনো তথ্য বাইরে প্রকাশ করা যাবে না।
পরে নিউইয়র্ক টাইমসের দায়ের করা একটি মামলায় চলতি বছরের মার্চে ফেডারেল আদালত ওই নীতিটি বাতিল করে দেন। মার্কিন সরকার অবশ্য সেই রায়ের বিরুদ্ধে আবারো আপিল করেছে। একই সাথে পেন্টাগনের ভেতরে সাংবাদিকদের চলাচলের জন্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তারক্ষীর বাধ্যবাধকতাকে চ্যালেঞ্জ করে মে মাসে আরেকটি মামলা করা হয়েছে, যা এখনো চলমান রয়েছে। মুক্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের এই চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের স্বচ্ছতার দাবিকে এক বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
সূত্র : এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও আল জাজিরা



