গত এক সপ্তাহে হাইতিতে গ্যাং সংঘর্ষে নিহত ৭৮, আহত ৬৬

হাইতির রাজধানীর উপকণ্ঠে বিভিন্ন গ্যাংয়ের মধ্যে সংঘর্ষে গত ৯ মে থেকে কমপক্ষে ৭৮ জন নিহত এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে সাধারণ নাগরিক ১০ জন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
হাইতিতে সংঘর্ষের ঘটনা
হাইতিতে সংঘর্ষের ঘটনা |সংগৃহীত

হাইতির রাজধানীর উপকণ্ঠে বিভিন্ন গ্যাংয়ের মধ্যে সংঘর্ষে গত ৯ মে থেকে কমপক্ষে ৭৮ জন নিহত এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে সাধারণ নাগরিক ১০ জন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) হাইতিতে অবস্থিত জাতিসঙ্ঘ কার্যালয় (বিনুহ বা বিআইএনইউএইচ) বার্তাসংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানায়।

বিনুহ জানায়, ৯ মে থেকে দেশটির সিতে সোলেই ও ক্রোয়া-দে-বুকেতে বিভিন্ন গ্যাংয়ের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭৮ জন নিহত এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, চারজন নারী এবং একজন কিশোরীসহ মোট ১০ জন সাধারণ নাগরিক, বাকিরা গ্যাং সদস্য।

বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ হাইতি দীর্ঘদিন ধরে গ্যাং সহিংসতায় বিপর্যস্ত। গত দুই বছরে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

সংঘর্ষের কারণে গত সপ্তাহে প্রায় পাঁচ হাজার ৩০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অনেক পরিবার এখনো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দফতর।

একটি হাসপাতাল এবং ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ (এমএসএফ) পরিচালিত একটি চিকিৎসাকেন্দ্র তাদের কার্যক্রম স্থগিত করে কর্মীদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

সরিয়ে নেয়ার আগে এমএসএফ জানায়, মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে ৪০ জন গুলিবিদ্ধ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।

জাতিসঙ্ঘ আরো জানায়, এর আগে মার্চ ও এপ্রিল মাসে একই এলাকায় সহিংসতায় প্রায় আট হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন।

বিনুহ জানায়, ৫ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত সিতে সোলেই ও ক্রোয়া-দে-বুকেতে কমপক্ষে ৩০৫ জন নিহত এবং ২৭৭ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৩ জন সাধারণ নাগরিক, যার মধ্যে ১৭ জন নারী এবং ১৩ জন শিশু রয়েছে। বাকি নিহতরা গ্যাং সদস্য।

হাইতিতে একটি নতুন বহুজাতিক গ্যাংবিরোধী বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে, যা অর্থ ও সম্পদের সঙ্কটে থাকা আগের সহায়তা মিশনের স্থলাভিষিক্ত হবে। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০০ জন চাদীয় সেনা পোর্ট-অ-প্রিন্সে পৌঁছেছেন।

নতুন বাহিনী বৃহস্পতিবার জানায়, তাদের কমান্ডার হিসেবে মঙ্গোলিয়ার জেনারেল এরদেনেবাত বাতসুরি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

সূত্র: বাসস