তামিলনাড়ুর নির্বাচন

৩ দিনের নাটকীয়তার অবসান, অবশেষে মসনদ নিশ্চিত হলো বিজয়ের

‘ভিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকে-কে সমর্থন জানিয়েছে। এতে বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ পরিষ্কার হয়ে গেছে। সেইসাথে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) সমর্থন পুনর্বহাল করায় ১২০ জন বিধায়ক চূড়ান্ত হয়েছে, ফলে টিভিকে-র থালাপতি বিজয় শিগগিরই রাজ্যপালের সাথে দেখা করবেন।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
থালাপতি বিজয়
থালাপতি বিজয় |সংগৃহীত

তিন দিনের নাটকীয়তার অবসান শেষে সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেছে সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে)।

থিরুমাভালাভানের নেতৃত্বাধীন দল ভিডুথালাই চিরুথাইগাল কাটচি (ভিসিকে) বিজয়কে নিঃশর্ত সমর্থন দেয়ায় বিধানসভায় প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের নির্বাচনে বিজয়ের দল ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারছিল না। এর আগে কংগ্রেসের পাঁচজন এবং বাম দলগুলোর চারজন নবনির্বাচিত বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিজয়ের ঝুলিতে ছিল ১১৬টি আসন।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি শনিবার (৯ মে) জানিয়েছে, ভিসিকে-র পক্ষ থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ দু’টি আসনের সমর্থন যোগ হওয়ায় জোটের মোট সদস্য সংখ্যা এখন ঠিক ১১৮-তে পৌঁছেছে, যা সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম প্রয়োজন। যদিও ভিসিকে-র পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে বিশ্বস্ত সূত্রের খবর অনুযায়ী তারা বিজয়কে নিঃশর্ত সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অন্যদিকে, টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ভিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকে-কে সমর্থন জানিয়েছে। এতে বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ পরিষ্কার হয়ে গেছে। সেইসাথে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) সমর্থন পুনর্বহাল করায় ১২০ জন বিধায়ক চূড়ান্ত হয়েছে, ফলে টিভিকে-র থালাপতি বিজয় শিগগিরই রাজ্যপালের সাথে দেখা করবেন।

এর আগে, শুক্রবার রাতে ধাক্কা খায় যখন ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) এবং আম্মা মাক্কাল মুনেত্র কাজাগাম (এএমএমকে) স্পষ্ট করে দেয় যে, তারা এই মুহূর্তে বিজয়ের দুই বছরের পুরনো দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম’ (টিভিকে)-কে সমর্থন করবে না।

গত মাসের নির্বাচনে আইইউএমএল এবং এএমএমকে মিলে তিনটি আসনে জিতেছে। এর মধ্যে দু’টি আসন—যা বিজয়কে দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল বলে টিভিকে দাবি করেছিল—তা পেলে বিজয় প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে পারতেন।

তবে বিজয়ের রাজ্যপাল আর ভি আরলেকারের সাথে দেখা করার কয়েক ঘণ্টা পরেই এই ‘চুক্তি’ ভেস্তে যাওয়ায় পরিস্থিতি বেশ অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। রাজ্যপাল টিভিকে-র দাবি নাকচ করে দিয়ে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের বদলে ১১৮ জন বিধায়কের লিখিত সমর্থনপত্র দাবি করেছেন।

এখন সব নজর গিয়ে পড়েছে ভিসিকে এবং তাদের নির্বাচিত দুই বিধায়কের ওপর। টিভিকে ভেবেছিল এই আসনগুলো তাদের ঝুলিতেই আছে, কিন্তু দলের প্রধান থল থিরুমভালভান ডিএমকে জোট ত্যাগ করার ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন।

তিন দিনে একের পর এক বদলে যাওয়া ভিসিকের নাটক যেভাবে মোড় নেয় : বিজয়কে সমর্থনের বিষয়ে আলোচনা করতে ভিসিকে এবং বাম দলগুলোর নেতারা বুধবার ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিনের সাথে দেখা করেন।

সূত্র জানিয়েছে, স্ট্যালিন তিনটি দলকেই সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন এবং বলেছেন প্রতিটি দল তাদের স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে স্বাধীন। এরপরই টিভিকে বাম দল (সিপিআই, সিপিএম), ভিসিকে এবং আইইউএমএল-এর সাথে যোগাযোগ শুরু করে।

টিভিকে-র দরকার ছিল ছয়টি আসন (যেহেতু কংগ্রেস পাঁচটি আসন নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে), যেখানে এ দলগুলোর হাতে ছিল মোট আটটি আসন।

পুরো বৃহস্পতিবার জুড়েই ছিল চরম উত্তেজনা। সিপিআই এবং সিপিএম প্রথমে কিছুটা দোটানায় ছিল, তবে পরে তারা টিভিকে-কে ‘ভেতর থেকে’ সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে, ভিসিকে নীরবতা বজায় রাখে। থিরুমভালভান শুধু বলেছিলেন ‘দ্রুত সিদ্ধান্ত নেব’। শোনা যাচ্ছে, ভিসিকে কেবল একটি মন্ত্রিত্ব নয়, বরং থিরুমভালভানের জন্য উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ দাবি করেছে। এমনকি গুঞ্জন উঠেছে তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদারও হতে পারেন।

বিজয় যখন ১১৩ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে রাজ্যপালের কাছে যান, রাজ্যপাল প্রশ্ন তোলেন, ‘১১৮ ছাড়া আপনি সরকার চালাবেন কীভাবে?’ বিজয় বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জেদ ধরে থাকেন।

শুক্রবার সকালে ভিসিকে ঘোষণা দেয় তারা টিভিকে-কে সমর্থন করবে। এর ফলে কংগ্রেসের পাঁচ, বামেদের চার এবং ভিসিকে-র দুই আসন মিলে বিজয়ের সমর্থনে মোট ১১৯ জন বিধায়ক দাঁড়ায়। এটি সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট ছিল। এমনকি বিজয় ভেবেছিলেন আইইউএমএল-ও তাকে সমর্থন দিচ্ছে, তাই তিনি ১২১ জন বিধায়কের তালিকা নিয়ে রাজ্যপালের কাছে যান।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে আইইউএমএল, এএমএমকে এবং পুনরায় ভিসিকে পিছিয়ে আসায় বিজয়ের তৃতীয়বারের সরকার গঠনের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

উল্লেখ্য, তামিলনাড়ু বিধানসভার মেয়াদ আগামী ১০ মে অর্থাৎ সোমবার শেষ হচ্ছে। এর মধ্যেই নতুন সরকার গঠন করতে হবে, নতুবা রাজ্যপালকে নতুন করে নির্বাচনের ডাক দিতে হবে এবং বিজয়ের গত মাসের সব সাফল্য বিফলে যাবে।

তবে শেষমেশ ভিসিকের সমর্থন ও আইইউএমএল সমর্থন পুনর্বহাল করায় ১২০ জন বিধায়ক চূড়ান্ত হওয়ায় বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ পরিষ্কার হয়ে গেছে।

সূত্র : এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া