আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক টিকাবিষয়ক সংস্থা গ্যাভির সাথে পুনরায় সম্পৃক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
গ্যাভি (দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স) একটি আন্তর্জাতিক জোট, যা সরকার ও বেসরকারি দাতাদের একত্র করে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সাশ্রয়ী মূল্যে গুরুত্বপূর্ণ রোগের টিকা সংগ্রহে সহায়তা করে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ১৫৮ কোটি মার্কিন ডলার (এক দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার) সমমূল্যের সহায়তা প্রত্যাহার করে নেয়। সে সময় টিকা বিষয়ে সংশয়বাদী হিসেবে পরিচিত দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র কোনো প্রমাণ ছাড়াই টিকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, মঙ্গলবার কংগ্রেসের এক শুনানিতে মার্কো রুবিও বলেন, কেনেডির সংস্কার উদ্যোগে ট্রাম্প প্রশাসন সমর্থন দিয়ে এসেছে।
তিনি আইনপ্রণেতাদের বলেন, ‘এখন আমরা এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে পররাষ্ট্র দপ্তর আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হবে, যাতে আমরা একটি ফলাফলে পৌঁছতে পারি। কারণ এ বিষয়ে আমাদের একটি সমাধানে পৌঁছাতেই হবে।’
গ্যাভির তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি কোভিড-১৯, ইবোলা, ম্যালেরিয়া, জলাতঙ্ক, পোলিও, কলেরা, যক্ষ্মা, টাইফয়েড ও ইয়েলো ফিভারসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি শিশুকে টিকা প্রদানে সহায়তা করে।
এএফপিকে দেয়া এক বিবৃতিতে গ্যাভির প্রধান সানিয়া নিশতার বলেন, ‘গ্যাভির অর্থায়ন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সম্পৃক্ত হতে চায়- পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর এ বক্তব্যে আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত। কংগ্রেস গ্যাভির জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করেছে, তা ছাড় হলে আমরা বিশ্বকে সংক্রামক রোগের হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে আরো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারব।’
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের বুন্ডিবুগিও টিকার উৎপাদন দ্রুততর ও সম্প্রসারিত করতে অংশীদারদের সাথে আমরা যে উদ্যোগ নিয়েছি, এটি তার গুরুত্বও তুলে ধরে।’
এর আগে, গ্যাভি ঘোষণা দিয়েছিল যে, ইবোলার বিরল বুন্ডিবুগিও ধরন মোকাবেলায় টিকা উন্নয়ন ও উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে তারা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি মার্কিন ডলার (৫০ মিলিয়ন ডলার) পর্যন্ত সহায়তা দেবে।
বর্তমানে কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে ইবোলার এ বিরল ধরন প্রাণঘাতী প্রাদুর্ভাব সৃষ্টি করেছে এবং এর বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা দ্রুত উৎপাদনের প্রচেষ্টা চলছে। বাসস



