বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণিত দেশ ইসরাইল!

বিশ্বব্যাপী মর্যাদার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও নাটকীয় পতন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে রাশিয়া ও চীন উভয়েরই নিচে থেকে ওয়াশিংটন এখন বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে বিবেচিত পাঁচটি দেশের মধ্যে স্থান পেয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনের পার্ক ইস্ট সিনাগগে বিক্ষোভে ফিলিস্তিনপন্থীরা
নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনের পার্ক ইস্ট সিনাগগে বিক্ষোভে ফিলিস্তিনপন্থীরা |আনাদোলু অ্যাজেন্সি

‘নিরা ডেটা’ তাদের ‘২০২৬ গণতন্ত্র ও দেশ সম্পর্কিত ধারণা’ গবেষণার অংশ হিসেবে নতুন এক বৈশ্বিক জরিপ প্রকাশ করেছে। জরিপ অনুসারে, ইসরাইলকে এখন বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণিত দেশ হিসেবে দেখা হয়। নেতিবাচক বা ঘৃণিত দেশের তালিকায় প্রথম পাঁচটি দেশের তালিকায় রয়েছে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে সবচেয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচিত পাঁচটি দেশ হলো— সুইজারল্যান্ড, কানাডা, জাপান, সুইডেন ও ইতালি।

গবেষণার ফলাফলে ‘গ্লোবাল কান্ট্রি পারসেপশনস ২০২৬’ র‍্যাঙ্কিং-এর একেবারে তলানিতে স্থান পেয়েছে ইসরাইল। জরিপটি ৪৬ হাজার ৬৬৭ জন উত্তরদাতার ওপর করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ১২৯টি দেশ ও তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে কিভাবে দেখা হয়, তা মূল্যায়ন করার জন্য মূলত গবেষণাটি করা হয়েছে।

গাজায় গণহত্যা, ফিলিস্তিনিদের গণ-বাস্তুচ্যুতি, ফিলিস্তিনের মুসলিমদের অনাহারে রাখা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার মধ্যে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার আরো একটি লক্ষণ হলো এই ফলাফল। মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক আদালতগুলো দখলদার ইসরাইল কর্তৃক আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্ক করায় দেশটির বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ধসে পড়েছে।

গাজায় দখলদার ইসরাইলের আক্রমণের জেরে দেশটির মর্যাদার এই পতন ঘটেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইল ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, গাজার বেশিরভাগ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেছে, প্রায় সমগ্র জনগোষ্ঠীকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং এমন সব শর্ত আরোপ করেছে, যেগুলোকে জাতিসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা গণহত্যামূলক বলে বর্ণনা করেছেন।

বিশ্বব্যাপী মর্যাদার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও নাটকীয় পতন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে বিবেচিত দেশগুলোর মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। এক্ষেত্রে রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। মাত্র দুই বছরে ৩৮ পয়েন্ট হারানোর কারণে নেট পারসেপশন স্কোর ২০২৪ সালের +২২ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে -১৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। এর মধ্যে ছিল ন্যাটো মিত্রদের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন, আগ্রাসী শুল্ক আরোপ, গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত হুমকি, ইউক্রেনের জন্য সাহায্য হ্রাস এবং ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সঙ্ঘাতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা। সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন রাশিয়া ও ইসরাইলের পর বিশ্বের একটি প্রধান হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, জরিপে নির্বাচন, বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ, নাগরিক শিক্ষা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ, আইনের শাসন, সরকারি স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের মতো বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করার মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়, তারা গণতন্ত্রকে কিভাবে অনুভব করে।

সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর