কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ

পর্যটকদের নতুন গন্তব্য নীল জলের পাটুয়ারটেক সৈকত

পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকতের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য যেন পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া (কক্সবাজার)

Location :

Cox's Bazar
পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত
পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত |নয়া দিগন্ত

কক্সবাজারে একপাশে গর্জে ওঠা নীল সাগরের ঢেউ, অন্যপাশে পাহাড়ের সবুজের সমারোহ। এ যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা এক জীবন্ত চিত্রকর্ম। এমনই অপার সৌন্দর্যে ঘেরা কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রতিদিনই হাজারো ভ্রমণপিপাসুকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এটি শুধু একটি রাস্তা নয় বরং বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন ঐতিহ্যের নাম। এই মেরিন ড্রাইভ ধরে যতদূরই যাই, ততই যেন প্রকৃতি নতুনরূপে ধরা দেয়। কলাতলী, সুগন্ধা, লাবণী, হিমছড়ি, ইনানী হয়ে আরো একটু এগোলেই চোখে পড়ে ভীষণভাবে মনকাড়া পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত।

সম্প্রতি পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এই পাটুয়ারটেক সৈকত। এখানে একই সাথে সাগরের ঢেউ, প্রবাল পাথরের সারি, পাহাড়ি দৃশ্যপট এবং মাছ ধরার নৌকাগুলোর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা যায় একসাথে।

ঢেউয়ের ধাক্কায় পাথরের গায়ে ছিটকে পড়া জলের ফোঁটা, স্বচ্ছ পানিতে নিচের পাথর দেখা, শো শো হাওয়া আর দূরে দুলতে থাকা মাছ ধরার ট্রলার, সব মিলিয়ে এটি যেন এক নিখাদ প্রশান্তির নাম।

মেরিন ড্রাইভ সড়কটি কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ গিয়ে শেষ হয়েছে। ৮০ কিলোমিটারের এই পথজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত।

এই পথের ডান পাশে সমুদ্র, বাঁ পাশে পাহাড় বিশ্বে এমন সৌন্দর্যের সম্মিলন খুব কমই দেখা যায়। মেরিন ড্রাইভ ধরে যাত্রাপথে চোখে পড়ে প্যারাসেইলিং পয়েন্ট, হিমছড়ি জলপ্রপাত, লাল কাঁকড়ার সৈকত, ইনানীর প্রাকৃতিক পাথুরে সৈকত। তবে এসব পেরিয়ে যাওয়া মাত্রই পাটুয়ারটেক যেন এক নিভৃত সৌন্দর্যের স্বর্গ।

এখানে নেই শহরের কোলাহল, নেই বাণিজ্যিক ঘনত্ব। আছে শুধু প্রকৃতির নির্মলতা। পাটুয়ারটেকের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এখানকার প্রবাল পাথর। ঢেউয়ের সাথে তাদের ধাক্কাধাক্কি, কাচের মতো স্বচ্ছ পানিতে তাদের উঁকি মারা আর পাশেই পাহাড়ি গাছপালা সব মিলিয়ে এক অপার্থিব অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

পাটুয়ারটেক কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে কক্সবাজার পৌঁছাতে পারবেন বাস, ট্রেন বা প্লেনে। বাসে সময় লাগে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, টিকিট অনলাইনে বা সরাসরি কাউন্টারে পাওয়া যায়। পর্যটক এক্সপ্রেস ও কক্সবাজার এক্সপ্রেস নামে দু’টি ট্রেন কমলাপুর থেকে প্রতিদিন ছেড়ে যায়, যাত্রা সময় প্রায় ৯ ঘণ্টা।

বিমানে যেতে চাইলে মাত্র ৫০ মিনিটেই পৌঁছে যাবেন কক্সবাজার। কক্সবাজার শহর থেকে ডলফিন মোড় পর্যন্ত যেতে হবে। সেখান থেকে সিএনজি, অটোরিকশা বা চান্দের গাড়ি নিয়ে মেরিন ড্রাইভ ধরে সরাসরি পাটুয়ারটেকে যাওয়া যায়।

অটো রিকশার ভাড়া ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, সিএনজি ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা। যদি চান্দের গাড়ি নিতে চান, খরচ পড়বে আনুমানিক চার হাজার ৫০০ টাকা (দলগত যাত্রার জন্য উপযোগী)।

পর্যটন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত পাটুয়ারটেক সৈকত নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটনের পরিধি বাড়াতে কক্সবাজার শুধু লাবণী, ইনানী বা হিমছড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পাটুয়ারটেকের মতো নতুন গন্তব্যগুলোকে উন্নয়ন ও প্রচারে আনতে হবে। এই এলাকা শুধু সৌন্দর্য নয়, প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও শান্ত পরিবেশ সংরক্ষণেরও অন্যতম জায়গা।