ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারে সরকার পরিকল্পনা করছে : অর্থমন্ত্রী

বর্তমানে বাংলাদেশের আর্থিক খাত একটি বড় ধরনের পুঁজি ঘাটতির মুখে রয়েছে, যা দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী |ইন্টারনেট

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার বাজেটীয় পদক্ষেপ এবং বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং বেসরকারি খাতের পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার পরিকল্পনা করছে।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি বড় ঘাটতি এবং রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। তবে সময় ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্থনীতি আবার গতি ফিরে পাবে বলে আমরা আশাবাদী।’

আজ মঙ্গলবার সংসদে নোয়াখালী-৫ আসনের সরকারি দলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের আর্থিক খাত একটি বড় ধরনের পুঁজি ঘাটতির মুখে রয়েছে, যা দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান- উভয়ই পুঁজির সঙ্কটে ভুগছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় মুদ্রার ৪০ শতাংশের বেশি অবমূল্যায়ন, পাশাপাশি ইউটিলিটি ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে বেসরকারি খাতের ব্যবসায় প্রায় ৫০ শতাংশ পুঁজি ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, অতীতে অবৈধভাবে পুঁজি পাচারের কারণে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা খাতটিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে পুঁজি পুনঃসংযোজনের পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আগামী বাজেটগুলোতেও এ খাতে বরাদ্দ অব্যাহত রাখা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ব্যাংক খাত পুনঃমূলধনীকরণে সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে, বিশেষ করে আইএমএফের সাথে কাজ করছে। এছাড়া, দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, যাতে স্থিতিশীলতা ও তারল্য ফিরিয়ে আনা যায়।

অর্থমন্ত্রী অতীতের নানা অনিয়ম- যেমন ঋণ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা ও আর্থিক খাতে অসদাচরণের সঙ্কটকে আরো তীব্র করেছে বলে স্বীকার করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলোর ব্যাপক ঋণ গ্রহণের ফলে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তি সীমিত হয়ে পড়েছিল।