সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করছে : মাওলানা আব্দুল হালিম

মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, জনগণ পরিবর্তন চায়, জনগণ সংস্কার চায়। সংশোধনের নামে জনগণ অতীতের মতো আর কোনো ধোঁকায় পড়তে চায় না। অতীতে বহুবার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। আর সেই সংশোধন জনগণের স্বার্থে হয়নি, সংশোধন হয়েছে সরকারের ক্ষমতা বাড়াতে। তাই আর সংশোধন নয় এবার গণভোটের জনরায় মেনে সংবিধান সংস্কার করতে হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মাওলানা আব্দুল হালিম
মাওলানা আব্দুল হালিম |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম অভিযোগ করেছেন যে ‘সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করছে।’

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে চকবাজার-বংশাল জোনের অগ্রসর কর্মী শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রদল যেভাবে চট্রগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদের ওপর রামদা নিয়ে হামলা চালিয়েছে, প্রকাশ্যে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখিয়েছে এতে মনে হয় ছাত্রদল বিএনপি সরকারকে খাঁদের কিনারায় নিয়ে যাচ্ছে। সরকার নিজেদের ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমেই ছাত্র সমাজকে ক্ষিপ্ত করে তুলছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘চট্রগ্রামের ঘটনার পর সরকার যদি জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের আটক করতো, তবে ডাকসু নেতাদের থানার ভেতরে হামলা করার সাহস ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা দেখাতে পারতো না। সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা একের পর এক মব সৃষ্টি করে যাচ্ছে আর সরকার নিরব দর্শকের ভূমিকা রেখে মব সন্ত্রাসকে আশ্রয়-প্রশয় দিচ্ছে।’

তিনি উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। জামায়াতে কোনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করেনি, করবে না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। কোনো অপশক্তিকে জনগণের ঘাড়ে চেপে বসতে দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, জনগণ পরিবর্তন চায়, জনগণ সংস্কার চায়। সংশোধনের নামে জনগণ অতীতের মতো আর কোনো ধোঁকায় পড়তে চায় না। অতীতে বহুবার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। আর সেই সংশোধন জনগণের স্বার্থে হয়নি, সংশোধন হয়েছে সরকারের ক্ষমতা বাড়াতে। তাই আর সংশোধন নয় এবার গণভোটের জনরায় মেনে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাস, সর্বস্তরে চাঁদাবাজি, লুটপাট, দখল, জবরদখল করে সরকার আবারো দেশে একনায়নতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের দিয়ে সরকার মব সৃষ্টি করে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু জনগণ সরকারের ফাঁদে পা দেবে না। সরকারকে সোজা পথে আনতে যা করণীয় জনগণ তা গণতান্ত্রিকভাবেই করবে।’

তিনি আরো বলেন, একটি ফেইক নিউজকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্রকে হুমকি দেয়া হয়েছিল। সেই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ওই ছাত্র তার দুই বন্ধুকে সাথে নিয়ে শাহবাগ থানায় জিডি করতে গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তার জিডি গ্রহণ না করে তাদেরকে থানার ভেতরে দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রাখে এবং পরে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা থানায় এসে পুলিশের উপস্থিতিতে ডাকসু নেতাদের ওপর হামলা চালায়।

এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার সময় সাংবাদিকেরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালিয়ে ১২ জন সাংবাদিককে আহত করে। যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত করার সামিল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি, চকবাজার-বংশাল জোন পরিচালক মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী জোন পরিচালক এস এম আহসান উল্লাহর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরের আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ডক্টর আব্দুল মান্নান।

অনুষ্ঠানে চকবাজার-বংশাল জোনের সকল থানা আমির-সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।