মাধবী মার্মার মনোনয়নপত্র অবৈধ বলে ইসিতে অভিযোগ

‘মাধবী মার্মা জেলা পরিষদের সদস্য (লাভজনক পদ) পদ থেকে পদত্যাগ না করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।’

বিশেষ সংবাদদাতা
মাধবী মার্মা
মাধবী মার্মা |সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মাধবী মার্মা’র মনোনয়নপত্র অবৈধ হিসেবে দাবি করে এই নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চন্দ্র চাকমা।

রোববার (২৬ এপ্রিল) পাঠানো এ চিঠিতে তিনি বলেছেন, ‘মাধবী মার্মা জেলা পরিষদের সদস্য (লাভজনক পদ) পদ থেকে পদত্যাগ না করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আইনগতভাবে অবৈধ ওই মনোনয়নপত্র বাতিল করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আবেদন করছি।’

রিটার্নিং অফিসারকে দেয়া লিখিত অভিযোগ আবেদনে চন্দ্রা চাকমা বলেন, আমি চন্দ্রা চাকমা (৩৩) পিতা- সুনীল কান্তি চাকমা, মাতা- রীনা চাকমা, সাং- রাজদ্বীপ বাবু পাড়া চক্রপাড়া- ১, ১০২ নং রাঙ্গাপানি, উপজেলা- রাঙ্গামাটি সদর, জেলা- রাঙ্গামাটি, বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক। বিএনপি কর্তৃক সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য পদে মনোনীত মাধবী মার্মা (৫০) পিতা- লাপাই মার্মা, স্বামী-চিং সিং প্রু, বর্তমান সাং- উজানী পাড়া, ৫ নং ওয়ার্ড, বান্দরবান পৌরসভা, বান্দরবান সদর, বান্দরবান পার্বত্য জেলা, স্থায়ী সাং- মধ্যম পাড়া, ডাকঘর- বান্দরবান- ৪৬০০, বান্দরবান সদরের বাসিন্দা।

রিটার্নিং অফিসারকে দেয়া চিঠিতে চন্দ্রা জানান, বিগত ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রচারিত স্মারক নং- ২৯.০০.০০০০.০০০.২১৪.১৮.০০২২.২৪-১২১. তারিখ- ০৭/১১/২০২৪ ইং তারিখ মূলে প্রচারিত প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য (লাভজনক পদ) পদে মনোনীত হন। তখন থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত উক্ত পদে নিয়োজিত থেকে মাধবী মার্মা দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মাধবী মার্মা জেলা পরিষদের সদস্য পদে বহাল থাকা অবস্থায় উক্ত পদ থেকে পদত্যাগ না করে আইনগত নিয়ম বহির্ভূতভাবে গত ২১ এপ্রিল বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। যা বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৬(২) (চ) অনুচ্ছেদ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী সম্পূর্ণ বেআইনি।

উল্লেখ্য, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ১৯৮৯-এর ৭৪ ধারা ও ১৮৬০ সনের দণ্ডবিধি ২১ ধারা অনুসারে জেলা পরিষদের সদস্যগণ পাবলিক সার্ভেন্ট এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ১২(সি) অনুসারে প্রজাতন্ত্র বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের কোনো লাভজনক পদে কর্মরত থাকা সংসদ পদে নির্বাচিত হবার অযোগ্য হবেন মর্মে উল্লেখ আছে।

ছাত্রদল নেত্রী চন্দ্র চাকমা জানান, মাধবী মার্মার বিষয়ে গত ২৩ এপ্রিল বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার সংবাদকর্মীরা পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করেন- ‘বর্তমান বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাইয়ের কাছে মৌখিকভাবে মাধবী মার্মার জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বিষয়ে জানতে চাইলে থানজামা স্পষ্টভাবে জানান যে, মাধবী মার্মা জেলা পরিষদ সদস্য পদ থেকে এখনো পদত্যাগ করেননি। অর্থাৎ সংবিধানের বর্ণিত অনুচ্ছেদ, দণ্ডবিধির বর্ণিত ধারা ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বিধান অনুযায়ী জনাব মাধবী মার্মা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ও নিয়মবহির্ভূতভাবে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য পদে তাহার মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

চন্দ্রা বলেন, মাধবী মার্মা স্বনামে বেনামে বান্দরবান সদরে বহুতল ভবনসহ তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে কোটি কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির তথ্য গোপন করে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য পদে তাহার হলফনামা ও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

চন্দ্রা চাকমা এই অভিযোগ আমলে নিয়ে মাধবীর মনোনয়ণপত্র বাতিলের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে মোবাইলফোনে চন্দ্রা চাকমার সাথে কথা হলে তিনি দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আমি অভিযোগ জমা দিয়েছি। ইসি থেকে বলা হয়েছে বিষয়টি তারা আমলে নিয়ে তদন্ত করবেন। সেই সময় ইসি থেকে তাকে ডাকা হবে।’

তিনি বলেন, ‘মাধবী বিএনপির কোনো পদেই ছিলেন না। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি এপিপি ও নোটারি পাবলিক ছিলেন।’