মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে হবে

ইউনিট সংগঠনগুলোই সংগঠনের মূল চালিকা শক্তি। এখান থেকেই সংগঠনের যোগ্য জনশক্তি ও প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করা হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Dhaka
বক্তব্য রাখছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন
বক্তব্য রাখছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন |নয়া দিগন্ত

ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা ও গণমানুষের অধিকার রক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ের ইউনিট সংগঠনগুলোকে সক্রিয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

আজ রোববার (৩ মে) রাজধানীর রূপনগরের ২ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টার মিলনায়তনে রূপনগর থানা জামায়াত আয়োজিত এক ইউনিট দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ইউনিট সংগঠনগুলোই সংগঠনের মূল চালিকা শক্তি। এখান থেকেই সংগঠনের যোগ্য জনশক্তি ও প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করা হয়। একটি আদর্শ সমাজ গঠন ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ের ইউনিটগুলোর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তাই সমাজের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এবং ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক একটি আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইউনিট সংগঠনগুলোকে ইসলামী আন্দোলনের দুর্ভেদ্য দূর্গে পরিণত করতে হবে। দায়িত্বশীলদের ব্যক্তিগত জীবনে সততা ও নৈতিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করাও সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। কারণ, এতে সাধারণ মানুষ ইসলামের সুমহান আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হয়।’

তিনি ক্ষুধা, দারিদ্র, অপশাসন-দুঃশাসন মুক্তি নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ইউনিট দায়িত্বশীলসহ সংগঠনের সকল স্তরের জনশক্তিকে ময়দানে যেকোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘মেয়াদের শুরুতে সরকার দেশ পরিচালনায় সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পারেনি বরং তারা সকল ক্ষেত্রেই ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করেছে। তারা জুলাই বিপ্লব, জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণার আত্মস্বীকৃতি দিয়েছে। তারা অবলীলায় স্বীকার করেছে যে, শুধুমাত্র নির্বাচনের দাবি আদায় করার জন্যই তারা জুলাই সনদের স্বাক্ষরসহ রাষ্ট্র সংস্কারের সবকিছু মেনে নিয়েছে। যা জনগণের সাথে রীতিমত বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। এতে প্রমাণ হয় তারা জুলাই সনদ, রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোটের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। কিন্তু এসব করে সরকার কোনোভাবেই গণরায়ের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করতে পারবে না বরং জনগণ সরকারকে জুলাই সনদ অবিকৃতভাবে মানতে বাধ্য করবে।’

তিনি সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যথায় অতীতের পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলে তিনি সরকারকে সতর্ক করে দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রিন্সিপাল নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক সেবামূলক কাজে কর্মীদের আরও সক্রিয় হতে হবে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের আপদে-বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলেই দ্বীনের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

থানা আমির মোহাম্মদ আবু হানিফের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও পল্লবী-রূপনগর জোন পরিচালক প্রিন্সিপাল নাসির উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতারা।