যাকাতকে হেয় করে বিএনপি নেত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ ছাত্রশিবিরের

‘সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি যাকাতের মতো একটি পবিত্র ফরজ বিধানকে অত্যন্ত তুচ্ছতাচ্ছিল্যের সাথে উপস্থাপন করেছেন।’

নিজস্ব প্রতিবেদক

যাকাতের মতো ইসলামের একটি মৌলিক ও ফরজ ইবাদতকে হেয় প্রতিপন্ন করে বিএনপি নেত্রী ও সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

শনিবার (২ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবাগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি যাকাতের মতো একটি পবিত্র ফরজ বিধানকে অত্যন্ত তুচ্ছতাচ্ছিল্যের সাথে উপস্থাপন করেছেন। তিনি সমাজ থেকে চাঁদাবাজি নির্মূলের কথা না বলে, উল্টো একে যাকাতের চেয়ে উত্তম হিসেবে উল্লেখ করেছেন; যা কেবল অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাতের শামিল।’

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘যাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি এবং এটি অভাবীদের প্রাপ্য অধিকার ও সামাজিক বৈষম্য দূর করার একটি ঐশ্বরিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। অন্যদিকে, চাঁদাবাজি একটি জঘন্য অপরাধ, যা জুলুম ও অন্যায়ের নামান্তর। ইসলামের পবিত্র বিধানকে এমন একটি অপরাধের সাথে তুলনা করা চরম মূর্খতা ও ধৃষ্টতা ছাড়া আর কিছুই নয়।’

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা ছিল দেশ সকল প্রকার জুলুম ও চাঁদাবাজি থেকে মুক্ত হবে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত চাঁদাবাজির ক্ষেত্রগুলো এখন কেবল হাতবদল হয়েছে।’

তারা অভিযোগ করেন, যখন রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি-লুটপাটের পক্ষে বৈধতা দেয়া হয় এবং একে ধর্মীয় বিধানের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়া হয়, তখন তা দেশপ্রেমিক জনতাকে গভীরভাবে শঙ্কিত করে। এটি জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের পরিবর্তে চাঁদাবাজিকে রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে জায়েজ করার অপচেষ্টা।

পরিশেষে ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া একটি দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ।’

তারা নিলোফার চৌধুরী মনিকে তার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে এই ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করার এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।