‘জাতীয় সংসদের সীমাবদ্ধতার কারণে সংবিধানের সংশোধনী বিলের মাধ্যমে মৌলিক সংস্কার সম্ভব নয়’ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ‘সংবিধান সংস্কারের জন্য গণভোট হয়েছে, সংশোধনের জন্য নয়। এ জন্য বিরোধীদল সংসদে মূলতবি প্রস্তাব এনে আলোচনায় স্পষ্ট করে বলেছে সংবিধান সংশোধন নয় সংস্কারই করতে হবে। কেননা জনগণ গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষেই রায় দিয়েছে। বিএনপি দলীয় অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন ও দলীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য তাদের ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধনের পথ অবলম্বন করছে। যা নতুন ফ্যাসিবাদের জন্ম দিবে।’
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে ফরিদপুর জেলা অঞ্চল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. হামিদ আযাদ বলেন, সংসদের চীপ হুইপ জামায়াতের বক্তব্যকে বিকৃত করে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। আজ রাজধানীর এক সভায় তিনি বলেন জামায়াত সংবিধান ছুঁড়ে ফেলতে চায়, তিনি যদি এই সংসদের কার্যবিবরণী ভালো করে দেখেন তা হলে সত্যটি বুঝতে পারবেন।
এধরণের কোনো বক্তব্য জামায়াত রাখে নাই। বরং তাদেরই নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জনগণের সরকার ক্ষমতায় আসলে এই সংবিধান ছুড়ে ফেলবেন এমন মন্তব্য করেছিলেন। একই কথা তাদের মহাসচিবও সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন এই সংবিধান আওয়ামী লীগের তৈরি সংবিধান। এই সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে এক পেশে সংবিধান তৈরি করা হয়েছে ফলে ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে। যে সংবিধানকে ওনাদের দলের চেয়াপারসন বেগম জিয়া এবং তাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রত্যাখ্যান করেছিলেন সেই সংবিধান এখনো বিদ্যমান আছে। এজন্যই আমরা এই পঞ্চদশ সংশোধনী বহাল রেখে দেশে যে গণতন্ত্র বিকাশ সম্ভব নয়।
তাই জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে গণভোটে রায় দিয়েছে। তাই জামায়াতের বক্তব্যকে বিকৃত করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ নেই।
ড. হামিদ আযাদ এধরণের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না বরঞ্চ তা আরও জটিল আকার ধারণ করবে। সুতরাং সরকারের উচিত গণরায়কে বাস্তবায়ন করা এবং দেশের গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার এবং শক্তিশালী করা।



