বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘আজকে আমি সংসদে গিয়েছি জুলাই বিপ্লবের কারণে, আজ আমি এখানে বক্তব্য দিচ্ছি জুলাই বিপ্লবের কারণে। জুলাই বিপ্লব আমাদের নতুন জীবন দান করেছে। সেই জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করা মানে নতুন জীবনকে অস্বীকার করা।’
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
‘জুলাই সনদ কার্যকর এবং গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের’ দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এ সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘বিএনপি সুকৌশলে সংসদে শপথ নিয়েছে, সংবিধান সংস্কারের শপথ নেয়নি। তারা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাদ দিয়েছে। এখন পাঁয়তারা করছে সংবিধান সংস্কার না করে কিছু সংশোধন করতে। আবার তারা যদি ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায় তা জনগণ রুখে দিবে। সংস্কার যতক্ষণ পরিপূর্ণ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘বিএনপির হয়েছে সুবিধাবাদের রোগ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যে অধ্যাদেশগুলো ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করে সেগুলো বিএনপির কাছে খুব পছন্দনীয় আর যে অধ্যাদেশগুলো জনগণের জন্য ভালো সেগুলো তাদের কাছে অপছন্দনীয়। বিএনপির এখন সুবিধাবাদের রোগ হয়েছে। বিএনপি সারা দেশে ‘না’র পক্ষে ভোট চেয়েছে আর প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বাধ্য হয়ে ভোট চেয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ মুনাফিকের রাজনীতি পছন্দ করে না। এদেশের জনরায়কে যদি হাইকোর্ট দেখান, এ দেশের জনগণ রাজপথে আপনাদেরকে মোকাবেলা করবে। জনগণের রায়ের প্রতি সন্মান রাখেন। তা নাহলে সংসদে ও রাজপথে আমরা আপনাদের প্রতিহত করবো ইনশাআল্লাহ।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘জনগণের ভোটে সরকার গঠন করা বৈধ আর জনগণের ভোটে সংস্কার হবে সেটাকে বলে অবৈধ। এমন দ্বিচারিতা বাংলাদেশের মানুষ সহ্য করবে না। আমরা সংস্কার পরিষদের কথা বলছি। এটা নতুন কোনো কথা নয়। ঐকমত্য কমিশনে ৩০টির মতো রাজনৈতিক দল সংবিধানের টেকসই পরিবর্তনের জন্য সংস্কার সাধনের জন্য সংস্কারকে টেকসই করার জন্য সংশোধনী নয়, সংবিধান সস্কার পরিষদের বিষয়ে আমরা একমত হয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, ভোটের আগে পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিকভাবে গণভোটের বিপক্ষে বলে নাই। কিন্তু ভোটের পরে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার কারণে তারা জনগণের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখানোর সাহস করছে। জনগণ গণভোটের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোতে যে পরিবর্তন চেয়েছে, আজকে সেটাকে তারা অমান্য করার পাঁয়তারা করছে। তারা সংবিধানের কথা বলছে, আমরা বলি দেশ পরিচালনা করতে সংবিধান লাগবে কিন্তু সেই সংবিধান ৭২ এর মুজিববাদী সংবিধান না, শেখ হাসিনার সংবিধান না, কোনো দল বিএনপির সংবিধান না। দেশ পরিচালনার জন্য সংবিধান হতে হবে জনগণের সংবিধান। আর সেই সংবিধানে জনগণের কথাগুলো থাকবে। তার অন্যথা আমরা হতে দেবো না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তো বুঝি, আপনারা সংস্কার চান না, গণভোট চান না। তার পেছনে কারণ হলো আপনারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতাকে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক ব্যক্তির করায়ত্ত করে রাখতে চান। গণভোট মেনে নিলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ স্বচ্ছ্ হবে, আপনাদের কর্তৃত্ব এককভাবে থাকবে না। সে কারণে আপনারা গণভোট মেনে নিতে চান না। গণভোট মেনে নিলে তত্বাবধায়ক সরকারের অন্তর্ভূক্তিমুলক কাঠামো আসবে আপনারা সেটা চান না। গণভোট কার্যকর হলে উচ্চকক্ষ হবে ভোটের পিআর অনুযায়ী আপনারা সেটা চান না। আপনারা মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন চান না। এ কারণেই গণভোট চান না।’
‘আমরা বলতে চাই, সংসদে আপনাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ ৭০ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজপথে আছে। এই জনগণকে কোনোভাবেই অমান্য করে আপনারা টিকে থাকতে পারবেন না। আপনাদের পতন নয়, আপনাাদের সুন্দর পদক্ষেপের অপেক্ষায়। জাতিকে সাথে নিয়ে আমরা অপেক্ষা করছি। সংসদে রাজপথে কথা হবে সংস্কারের জন্য,’ বলেন তিনি।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, “একই দিনে দু’টি ভোট হয়েছে। একটিকে হালাল আরেকটিকে হারাম বলতে চায়। যারা হ্যাঁ ভোটের রায়কে অস্বীকার করতে চায় তাদের স্থান বাংলার মসনদে হবে না। যাই বলা হয়, তারা একটা শব্দ শুনিয়ে দেয়- ‘সংবিধান’। এই সংবিধান ৭২-এর মুজিববাদি সংবিধান। যা পরবর্তী সময়ে হাসিনার সংবিধানে পরিবর্তন হয়েছে। সেই সংবিধানকে তারেকের সংবিধান হতে দিবো না। গণভোটের রায়কে দ্রুত বাস্তবায়ন করুন, না হয় মসনদ থাকবে না।”
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মুখলেসুর রহমান কাসেমি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর যারা দেশের মানুষের ভাষা বুঝতে ভুল করেছে। তাদের ৩৬ দিনে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। বর্তমান সরকার যদি দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে ৩৬ দিন নয় ৩৬ ঘণ্টায় তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হবে।’
খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের বলেন, ‘তারা বলে গণভোট অবৈধ। যে সরকার বলেছিল গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেয়ার জন্য। বিএনপি যে পথে হাঁটছে তা জনগণের বিরুদ্ধ পথ। ফ্যাসিবাদের পথ। এর বিরুদ্ধে আমাদের আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।’



