স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের উপকূলীয় ও নদীমাতৃক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জনবল বর্তমান পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজারে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নদীমাতৃক বাংলাদেশের বিশাল পানিসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় কোস্ট গার্ডের ভূমিকা অপরিসীম। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন সরকার প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে যে ‘কোস্টগার্ড আইন’ প্রণীত হয়েছিল, তার মাধ্যমেই এই বাহিনীর যাত্রা শুরু।’
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ড সদরদফতরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (রেইজিং ডে) উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের দুর্গম হাওর অঞ্চল এবং সুন্দরবনসহ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলেও কোস্টগার্ডের কার্যক্রম বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যেখানে দুর্গমতার কারণে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পৌঁছানো কঠিন, সেখানে কোস্ট গার্ডকে আরো শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, দেশের উপকূলীয় ও নদীমাতৃক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জনবল বর্তমান পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজারে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেইসাথে এই বাহিনীকে অত্যাধুনিক লজিস্টিক সরঞ্জাম, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আরো সমৃদ্ধ করা হবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান যুগে অপরাধীদের কৌশল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বেড়েছে। দুর্বৃত্তরা এখন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তাদের মোকাবেলায় কোস্ট গার্ডকেও সমভাবে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ ও আধুনিক সম্পদে সজ্জিত হতে হবে। এজন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কারের কাজ হাতে নেয়া হবে।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি শৃঙ্খলা-পরিপন্থী বা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে, তবে বাহিনীর নিজস্ব ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের মাধ্যমে তা খতিয়ে দেখা হয় এবং প্রচলিত সামরিক বা বিভাগীয় আইনে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
দেশে জঙ্গি তৎপরতা-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে এই শব্দটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। কিছু উগ্রবাদী বা র্যাডিক্যাল গ্রুপ সব দেশেই থাকে, তবে তা নিয়ন্ত্রণে সরকার সতর্ক রয়েছে।’
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে সালহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের মধ্যে আছি। হঠাৎ পুরো ফোর্সকে প্রত্যাহার করা যায় না।’
মন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েন করা সেনাসদস্যের সংখ্যা খুব সীমিত পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে।
তিনি আরো জানান, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কেপিআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসওপি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা সবসময় বহাল থাকবে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কোস্ট গার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইউএনবি



