জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সংসদে মুলতবি প্রস্তাব

প্রস্তাবটি গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে স্পিকার সংসদে বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জাতীয় সংসদ
জাতীয় সংসদ |ইন্টারনেট

সংসদে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য গ্রহণ করেন এবং আগামী ৫ এপ্রিল দুই ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করেন।

প্রস্তাবটি গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে স্পিকার সংসদে বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গত ৫৩ বছরে এই প্রথমবার সরকারি দলের বা ট্রেজারি বেঞ্চের কোনো সদস্যের আনা মুলতবি প্রস্তাব আলোচনার জন্য গৃহীত হয়েছে।’

গত ৩০ মার্চ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

এরপর সংসদের অধিবেশনে নতুন করে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন এমপি জয়নুল আবদিন ফারুক।

প্রস্তাব উত্থাপন করে তিনি বলেন, এই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে ১৭ বছরের ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে সংঘটিত জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের ফসল।

তিনি আরো বলেন, এটি আমাদের ভবিষ্যতের রূপরেখা। কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ বিধি অনুযায়ী আমি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করছি। এই সনদ মূলত একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যেখানে সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন ও বিধি প্রণয়ন, সংশোধন ও পরিমার্জনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা রয়েছে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য সংসদের কার্যক্রম মুলতবি করে আলোচনা করা প্রয়োজন।

স্পিকার প্রস্তাবটি গ্রহণ করে বলেন, সংসদ সদস্য যে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরো বলেন, কার্যপ্রণালী বিধির ৬৫ (২) অনুযায়ী আমি এটি আলোচনার জন্য অনুমতি দিচ্ছি। সংসদের বর্তমান কার্যপরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) দিনের শেষ কার্যসূচি হিসেবে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা এ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা নির্ধারণ করা হলো।

সূত্র : বাসস