ইউএনজিএ জয়ের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

‘এই বিজয় বাংলাদেশের। এই বিজয় প্রধানমন্ত্রীর। তিনি যদি এই সিদ্ধান্ত না নিতেন এবং দৃঢ় সমর্থন না দিতেন, তাহলে ১০ বছরের যাত্রা আমরা ১০ সপ্তাহে সম্পন্ন করতে পারতাম না।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (বাঁয়ে) ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (বাঁয়ে) ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান |সংগৃহীত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য উৎসর্গ করে এই ঐতিহাসিক বিজয়ের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘অটল ও নিঃশর্ত’ সমর্থন বলে উল্লেখ করেছেন।

নিউইয়র্ক থেকে ফিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এই বিজয় বাংলাদেশের। এই বিজয় প্রধানমন্ত্রীর। তিনি যদি এই সিদ্ধান্ত না নিতেন এবং দৃঢ় সমর্থন না দিতেন, তাহলে ১০ বছরের যাত্রা আমরা ১০ সপ্তাহে সম্পন্ন করতে পারতাম না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এই বিজয় বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য উৎসর্গ করছি।’

মঙ্গলবার জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত ড. খালিলুর রহমান ইঙ্গিত দেন যে তিনি ঐতিহাসিক নজির এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে একইসাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউএনজিএ সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আজ, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে একইসাথে উভয় দায়িত্ব পালন করা সম্পূর্ণ সম্ভব। এখন এটি বেশ স্বাভাবিক।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ত্যাগ বা স্থগিত করবেন কি না এ নিয়ে এখনই কোনো তাড়াহুড়ার কারণ নেই।

তিনি বলেন, ‘আমি কি এই কাজ ছেড়ে দেবো? এটাই কি প্রশ্ন? এত তাড়াহুড়া করবেন না। নজির আছে।’

চার দশক আগে একই গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশের পূর্ববর্তী দায়িত্বের কথা স্মরণ করে ড. খালিলুর রহমান বলেন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংসদ স্পিকার হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী ১৯৮৬-৮৭ সালে একইসাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি তার ব্যক্তিগত সচিব ছিলাম এবং তার সাথে কাজ করেছি। তিনি দুই দায়িত্বই পূর্ণকালীনভাবে পালন করেছিলেন।’

কূটনৈতিক মহলে তিনি তার মন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে সম্পূর্ণভাবে নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের কাজে মন দেবেন কি না এ নিয়ে আলোচনা চলছে এমন এক সময় এ মন্তব্য এলো।

তিনি সাবেক মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ শহীদেরও উদাহরণ দেন, যিনি ২০২১ সালে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে এবং একইসাথে তার মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

বর্তমান জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির সাথে তুলনার বিষয়ে খালিলুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি ভিন্ন।

‘তিনি ছিলেন গ্রিন পার্টির নেতা এবং তার দল নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিল। তাই তিনি আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি,’ তিনি ব্যাখ্যা করেন।

ড. খালিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে সাইপ্রাসের আন্দ্রিয়াস এস কাকোরিসকে পরাজিত করেন। জাতিসঙ্ঘ সদরদফতর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত গোপন ভোটে তিনি ৯১ ভোট পান।

এই নির্বাচন চার দশক পর জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তন চিহ্নিত করেছে।

ড. খালিলুর রহমান দ্বিতীয় বাংলাদেশী, যিনি এই মর্যাদাপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হলেন। তিনি আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এক বছরের মেয়াদে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করবেন। বাসস