সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে আধুনিক ও ব্যবহারবান্ধব করার উদ্যোগ

‘দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনালের বাইরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অবৈধ কাউন্টার, এলোমেলো বাস দাঁড় করানো এবং অনিয়ন্ত্রিত যাত্রী ওঠানামার কারণে সায়েদাবাদ এলাকায় তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মূল নকশা অনুযায়ী টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন করা হবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) |সংগৃহীত

রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং যাত্রীসেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালকে আধুনিক ও কার্যকর পরিবহন হাবে রূপ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে এখন থেকে যত্রতত্র গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন বাস কাউন্টার উচ্ছেদ করে সব দূরপাল্লার বাস টার্মিনালের ভেতর থেকেই চলাচল নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) নগর ভবনে অনুষ্ঠিত সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবহন নেতা অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

সভায় জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনালের বাইরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অবৈধ কাউন্টার, এলোমেলো বাস দাঁড় করানো এবং অনিয়ন্ত্রিত যাত্রী ওঠানামার কারণে সায়েদাবাদ এলাকায় তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মূল নকশা অনুযায়ী টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন করা হবে।

এ লক্ষ্যে টার্মিনালের অভ্যন্তরে থাকা ছয়টি ব্লকের ১১০টি টিকিট কাউন্টার নতুনভাবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ কাজে পরিবহন মালিক সমিতি, ডিএসসিসি ও ট্রাফিক পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

সভায় আরো সিদ্ধান্ত হয়, টার্মিনালের বাইরে বা আশপাশে গড়ে ওঠা সব অনুমোদনহীন কাউন্টার এবং অভ্যন্তরের অবৈধ দোকানপাট দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে। একইসাথে মূল নকশা অনুযায়ী বাস চলাচলে ফ্লাইওভারের ব্যবহার নিশ্চিত করতে টার্মিনালের খোলা জায়গায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিত্যক্ত বাসের অবশিষ্টাংশ অপসারণ এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

যাত্রীসেবা বাড়াতে টার্মিনালে আধুনিক ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার, সুপরিসর বিশ্রামাগার, পরিচ্ছন্ন টয়লেট, পুলিশ ফাঁড়ি এবং নিয়ন সাইনবোর্ড স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও সভায় তুলে ধরা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মো: আবদুস সালাম বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেই সায়েদাবাদকে আধুনিক ও ব্যবহারবান্ধব টার্মিনালে রূপান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।

সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, বাসগুলো টার্মিনালের ভেতর থেকে চলাচল করলে যাত্রীদের নিরাপত্তা যেমন বাড়বে, তেমনি ঈদসহ বিশেষ সময়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতাও কমে আসবে। সরকার, মালিক ও শ্রমিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাসস