আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রস্তুত করা হচ্ছে ৯০টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন)। এছাড়া বিশেষ ট্রেন ও বাড়তি কোচ যুক্ত করাসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী ও ঢাকা বিভাগের লোকোমোটিভ কারখানায় এসব ইঞ্জিন মেরামত ও প্রস্তুতের কাজ চলছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার প্রকৌশলী মো: মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে, প্রতিদিন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ৯০টি থেকে ৯৫টি ইঞ্জিন প্রয়োজন হবে। গত ঈদুল ফিতরে পূর্বাঞ্চল ৮৮টি ইঞ্জিন পেয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, ঈদে কতটি ট্রেন চলবে, সে অনুযায়ী পাহাড়তলী ও ঢাকা বিভাগ থেকে ইঞ্জিনের চাহিদা আসে।
এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ দেয়া হয়।
বর্তমানে দুই বিভাগের কারখানায় ইঞ্জিন মেরামতের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী বিভাগীয় চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার প্রকৌশলী রাজেন্দ্র প্রসাদ ভৌমিক বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দুই বিভাগে মোট ৯০টি ইঞ্জিন মেরামত করা হচ্ছে। এর মধ্যে পাহাড়তলী ডিজেল শপে ৫৫টি ও ঢাকা বিভাগে ৩৫টি ইঞ্জিন মেরামতের কাজ চলছে।
ইতোমধ্যেই ৪৬টি ইঞ্জিনের মেরামত সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, ঈদকে সামনে রেখে পাহাড়তলী ডিজেল শপে প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে আটটি ইঞ্জিন মেরামত করা হচ্ছে।
তবে দক্ষ জনবল ও মানসম্মত যন্ত্রাংশের সঙ্কটকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বহরে মোট ২৯৭টি ইঞ্জিন রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৭টি মিটারগেজ ও ১৩০টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন। রেলট্র্যাকে যুক্ত হওয়ার পর একটি ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয় ২০ বছর। বর্তমানে রেলের ৫১ শতাংশ ইঞ্জিন সেই মেয়াদ অতিক্রম করেছে।
অর্থনৈতিক আয়ুষ্কালের মধ্যে রয়েছে ১৪৭টি ইঞ্জিন। বাকি ১৫০টি ইঞ্জিনের মধ্যে ৫০টির বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর, ১৬টির বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর এবং ৮৪টি ইঞ্জিনের বয়স ৪০ বছরের বেশি।
প্রকৌশলী মো: মিজানুর রহমান বলেন, পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন স্বাভাবিক ট্রেন পরিচালনায় প্রায় ১০০টি ইঞ্জিন প্রয়োজন হলেও সাধারণ সময়ে পাওয়া যায় ৭৮ থেকে ৮০টি। তবে ঈদের সময় মালবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায়, সেখান থেকে অতিরিক্ত কিছু ইঞ্জিন যাত্রীবাহী ট্রেনে ব্যবহার করা সম্ভব হয় বলে জানান তিনি। বাসস



