বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বাপশক) অধীনে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করেছে।
গত ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি পাঁচটি পদে (সাব-অ্যাসিসট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান-১ টেকনিশিয়ান-২, সায়েন্টিফিক অ্যাসিসট্যান্ট-২ এবং টেকনিক্যাল হেলপার) মোট ৯১ জন টেকনিক্যাল জনবল নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরপরই একাধিক পরীক্ষার্থী ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সংশ্লিষ্টরা।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, সায়েন্টিফিক অ্যাসিসট্যান্ট-২ ও টেকনিক্যাল হেলপার পদের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ড. মাহফুজা খান পরীক্ষার আগে তার ড্রাইভার আমিনুলের (রোল নম্বর: ১৯০০১০১৭) কাছে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন- এমন তথ্য ওই অডিও রেকর্ডে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের আরো দাবি, আমিনুলের ওই প্রশ্নপত্র ব্যবহার করে তার একাধিক নিকটাত্মীয়ও ওই নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাশাপাশি আইএফআরবির পরিচালক ড. এ এন কে মামুনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, নিয়োগ কমিটির কয়েকজন সদস্যের নিয়মিত নিয়োগ সংক্রান্ত বৈঠকে অনুপস্থিতির সুযোগে অনিয়ম সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকনিক্যাল হেলপার পদের প্রশ্নপত্র ছিল তুলনামূলকভাবে জটিল ও উচ্চমাত্রার কারিগরি জ্ঞানভিত্তিক।
এদিকে একাধিক সূত্রমতে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর কমিশনের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত রেখে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ। প্রথমে নিয়োগ কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করে।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে তড়িঘড়ি করে এবং অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
একইসাথে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়ম প্রতিরোধে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে নিয়োগ কমিটির সভাপতি ড. মাহফুজা খানের মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।



