ঈদযাত্রায় প্রতারণা ঠেকাতে শুধু ‘রেল সেবা’ অ্যাপেই টিকিট ক্রয়ের আহ্বান

‘সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেনের টিকিট নিশ্চিত করার প্রলোভন দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পরে তারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, এমনকি ব্যবহৃত সিমকার্ডও বন্ধ করে দেয়। ফলে অনেক যাত্রী প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
‘রেল সেবা’ অ্যাপেই টিকিট ক্রয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে
‘রেল সেবা’ অ্যাপেই টিকিট ক্রয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে |সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পর যাত্রীদের প্রতারণা ও হয়রানি থেকে সতর্ক থাকতে বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত ‘রেল সেবা’ অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট ক্রয়ের পরামর্শ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

একইসাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকিট নিশ্চিত করার নামে সক্রিয় প্রতারকচক্র সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৩ মে থেকে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে এবং শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। রেলওয়ের নির্ধারিত অ্যাপ ‘রেল সেবা’ ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে না।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেনের টিকিট নিশ্চিত করার প্রলোভন দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পরে তারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, এমনকি ব্যবহৃত সিমকার্ডও বন্ধ করে দেয়। ফলে অনেক যাত্রী প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, একটি নিবন্ধিত আইডি ব্যবহার করে নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে একবারে সর্বোচ্চ চারটি টিকেট কেনা যায়। এক্ষেত্রে সহযাত্রীদের নামও সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক।

রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, যে ব্যক্তির আইডি দিয়ে টিকিট ক্রয় করা হবে, ভ্রমণের সময় তাকে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ও ছবি সম্বলিত পরিচয়পত্র সাথে রাখতে হবে। আইডিধারী ব্যক্তি এবং টিকিটে উল্লিখিত সহযাত্রী ছাড়া অন্য কেউ ওই টিকেটে ভ্রমণ করলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে জানানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা চক্র যদি টিকিট সংগ্রহ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় বা অন্যের আইডিতে কেনা টিকিট বিক্রির চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ধরনের ঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি)-এর সহায়তা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া প্রতারণা সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে বাংলাদেশ রেলওয়ের হটলাইন ১৩১ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও নিশ্চিত করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। বাসস