এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন সামনে রেখে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই : শিল্পমন্ত্রী

‘বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আমাদের শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে এসএমই খাতের জন্য সহজ শর্তে এবং সময়োপযোগী অর্থায়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে দেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসএমই ফাউন্ডেশনকে আরো শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বক্তব্য দেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
বক্তব্য দেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির |সংগৃহীত

শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, লিস্ট ডেভলপড কান্ট্রিজ (এলডিসি) গ্র্যাজুয়েশন সামনে রেখে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় ১২টি ব্যাংক ও চারটি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আমাদের শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে এসএমই খাতের জন্য সহজ শর্তে এবং সময়োপযোগী অর্থায়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে দেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসএমই ফাউন্ডেশনকে আরো শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে।

এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রফতানিমুখী শিল্পের বিকাশে স্বল্পমূল্যের জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর সাথে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন বাহ্যিক চ্যালেঞ্জও যুক্ত হয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরো বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের ফলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া অনেক কনসেশনাল ঋণের সুযোগ ইতোমধ্যে সীমিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরো সংকুচিত হবে। ফলে দেশের অর্থনীতিকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য ধারাবাহিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা অপরিহার্য। শুধু উন্নয়ন নয়, বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতেও আমাদের একটি নির্দিষ্ট হারে প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের লজিস্টিক খরচ জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক মান প্রায় ১০ শতাংশ। এই ব্যবধান কমাতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: ওবায়দুর রহমান বলেন, উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিশেষ করে জিডিপিতে ভূমিকা রাখতে যোগ্য করে তুলতে কাজ করছে সরকার।

উল্লেখ্য, স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন। বাসস