ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব

গেজেটের ক্রমানুসারে পোস্টাল ব্যালটে প্রতীক দেয়া হয়েছে

‘ভিডিও ক্লিপটা যেটা করা হয়েছে, এটা করা উচিত হয়নি বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। প্রবাসী ভোটাররা একটা ব্যালট পেয়েছেন, এই আনন্দটুকু ধরে রাখার জন্য এটা কেউ ভিডিও করে পোস্ট করেছেন। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন যে এখানে কোনো ইনভেলাপ খোলা হয়েছে এরকম কোনো কিছু নেই।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ব্যালট পেপার ছাপানোর ক্ষেত্রে সরকারি গেজেটের ক্রমধারা বা ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটে বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’ ভাঁজের মধ্যে পড়ে যাওয়া নিয়ে দেয়া এক ব্যাখ্যায় বুধবার বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

ব্যালটের ভাঁজে ধানের শীষ প্রতীক ঢাকা পড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে সচিব বলেন, ইট ইজ এ মিস, আমি (এখনই বিস্তারিত) বলতে পারব না। কারণ, ছাপানোর দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাদের কাছ থেকে না জেনে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে যতটুকু জানা আছে, সরকারিভাবে যে গেজেট পাবলিশ করা হয়েছে, সেই গেজেটের ধারাবাহিকতা বা অর্ডার অনুযায়ী ব্যালট সাজানো হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধানের শীষ প্রতীকটি ব্যালটের ঠিক মাঝখানে রাখা হয়েছে, যা ভাঁজ করলে সহজে নজরে আসে না। দলটির পক্ষ থেকে এখনো পাঠানো হয়নি- এমন ব্যালটগুলো সংশোধন করার দাবি জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ব্যালট পুনরায় ছাপা হবে কি না জানতে চাইলে সচিব বলেন, এটি নিয়ে এখনই মন্তব্য করা যাবে না। কমিশন সভায় আলোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বাহরাইনে প্রবাসীদের কাছে পাঠানো ১৬০টি পোস্টাল ব্যালট এক জায়গায় থাকা এবং ভিডিও ভাইরাল হওয়া প্রসঙ্গে সচিব বলেন, আমরা ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট পাঠাচ্ছি। মধ্যপ্রাচ্যের এবং বেশকিছু দেশের পোস্টাল সিস্টেম এক একটা দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের। আমাদের কাছে যে তথ্য আছে তাতে বাহরাইনের ক্ষেত্রে যেটা হয়ে যে ওখানে ১৬০টি ব্যালট ছিল। সেটা কোনো এক জায়গায় বাক্সে দিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ছাত্র জীবনে আমরা দেখেছি বা আপনার ছাত্রজীবনে হোস্টেলে একটা জায়গায় চিঠিপত্র রেখে যেতো। আমরা সেখান থেকে নিজেরা নিজেরা নিয়ে নিতাম। সেরকম একটা বাক্সে ১৬০টি ব্যালট দিয়ে গেছে। ওই বাক্সটা যখন বাংলাদেশী প্রবাসী ভাই-বোনেরা এসে চার-পাঁচ জনে খুলেছেন, তখন তারা ওটা ভাগ করে যে, আমার পাশের ঘরে থাকে আমি এটা নিচ্ছি, আমি ওটা পৌঁছে দেবো। ব্যাপারটা এই রকম।

ইসি সচিব বলেন, ভিডিও ক্লিপটা যেটা করা হয়েছে, এটা করা উচিত হয়নি বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। প্রবাসী ভোটাররা একটা ব্যালট পেয়েছেন, এই আনন্দটুকু ধরে রাখার জন্য এটা কেউ ভিডিও করে পোস্ট করেছেন। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন যে এখানে কোনো ইনভেলাপ খোলা হয়েছে এরকম কোনো কিছু নেই।