স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন রোল মডেল হয়ে থাকবে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দফতরে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আয়োজিত ‘ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিআইডি প্রধান ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো: ছিবগাত উল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন আইজিপি বাহারুল আলম।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক প্রায় নয় লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই।
উপদেষ্টা বলেন, অতীতের জাতীয় নির্বাচনসমূহে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে মাত্র একজন অস্ত্রধারী পুলিশ নিয়োজিত ছিল। কিন্তু এবারই প্রথমবারের মতো প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যে কমপক্ষে দু’জন অস্ত্রধারী পুলিশ ও তিনজন অস্ত্রধারী আনসার নিয়োজিত থাকবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রসমূহে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছয়জন অস্ত্রধারী সদস্য নিয়োজিত থাকবে। তাছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্র ছাড়া (লাঠি সহ) ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে, যার মধ্যে থাকবে ছয়জন পুরুষ আনসার সদস্য ও বাকি চারজন মহিলা আনসার সদস্য।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন, যা রোল মডেল হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, এজন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। যেমন- প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও বডি ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার, সিসিটিভি স্থাপন, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াডের ব্যবহার। তাছাড়া এবার প্রবাসী ভোটার, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট সদস্যরাও সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে দুই পর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম পর্বে চলমান যারা মোতায়েন রয়েছেন, তারা বলবৎ থাকবে। দ্বিতীয় পর্বে ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট সাত দিন দায়িত্ব পালন করবেন।
উপদেষ্টা অনুষ্ঠানে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য সিআইডি’র বিভিন্ন স্তরের অফিসারদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
সূত্র : বাসস



