দেশে জ্বালানির কোনো সঙ্কট নেই, অসাধু ব্যবসায়ীর তেলের মজুদের কারণে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হচ্ছে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ৷
রোববার সংসদে নেত্রকোনা-৫ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন। রোববারের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দেশে জ্বালানির কোনো সঙ্কট নেই। সরকার ২০২৫ সালের মার্চ মাসে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করেছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে একই পরিমাণ তেল সরবরাহ করছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে জ্বালানি তেলের মজুদ ও কালোবাজারি করছে। ফলে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম তেল সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন থেকে মোটর বাইকে ২০০ টাকার ফুয়েল প্রদান বা রং লাগানোর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা প্রদান করা হয়নি। তবে, প্যানিক বায়িং ও মজুদ প্রবণতার কারণে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা, উপজেলা প্রশাসন ও বিপিসি ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেছে। প্রতিদিন অবৈধ মজুদদারকে নিয়োগকৃত ম্যাজিস্ট্রেটগণ কর্তৃক আইনের আওতায় এনে জেল-জরিমানা প্রদান করা হচ্ছে। মজুদ ও কালোবাজারি প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত আছে। এ ছাড়া, স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৯ হাজার ১১৬টি অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা হয়েছে, ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় হয়েছে এবং ৫ লাখ ৪২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার হয়েছে।
তিনি বলেন, ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিপণনে অধিকতর স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল কার্ড চালু করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সফল হলে সারা দেশব্যাপী তা বাস্তবায়ন করা হবে। ওই ফুয়েল কার্ডে গ্রাহকদের জ্বালানি তেল সংগ্রহের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। সূত্র : বাসস



