রাজধানীতে বসছে ২৭টি কোরবানির পশুর হাট, বসছে না সারুলিয়ায়

সিটি করপোরেশনের ১১টি হাটের মধ্যে ৯টিতে সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
রাজধানীতে বসছে ২৭টি কোরবানির পশুর হাট
রাজধানীতে বসছে ২৭টি কোরবানির পশুর হাট |প্রতীকী ছবি

ঢাকায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার মোট ২৭টি কোরবানির পশুর হাট বসছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৬টি হাটে পশু কেনা-বেচা হবে।

দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

হাটগুলোর ইজারাদার নির্ধারণে ইতোমধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।

ডিএসসিসি’র প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বাসসকে জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এবার ১১টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। তবে এবার সারুলিয়া স্থায়ী পশুর হাটে কোরবানির পশু বিক্রি হবে না। কারণ এই স্থানটি পানি উন্নয়ন বোর্ড অধিগ্রহণ করেছে। এবার এখানে কোনো ধরনের পশুর হাট বসানো যাবে না বলে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি জানান, প্রথমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রথম যে ইজারা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল সেখানে সারুলিয়া ছিল। পরে যখন তারা আন্তঃমন্ত্রণালয়ের কাগজপত্র দেখিয়েছে তখন সংশোধিত ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে এই হাটটি বাদ দেয়া হয়। ফলে এবার ১১টি স্থানে পশুর হাট বসছে।

এই কর্মকর্তা জানান, সিটি করপোরেশনের ১১টি হাটের মধ্যে ৯টিতে সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

বাকি দুটি হাটের সন্তোষজনক দর পাওয়া যায়নি। এটার হয়তো আবারো দরপত্র আহ্বান করা লাগতে পারে।

ডিএসসিসি এলাকার অস্থায়ী হাটগুলো বসবে পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিম পাশে নদীর পাড়ের খালি জায়গায়, উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গায়, রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গায়, আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গায় এবং শ্যামপুর-কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ডের খালি জায়গায়।

এছাড়া আফতাব নগর (ইস্টার্ন হাউজিং) ব্লক-ই, এফ, জি, এইচ, সেকশন-১ ও ২-এর খালি জায়গায়, শিকদার মেডিকেল-সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গায়, কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ি পানির পাম্প-সংলগ্ন রাস্তার অব্যবহৃত জায়গায়, দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং থেকে জুরাইন রেলক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার খালি জায়গায়, মোস্তমাঝি মোড়-সংলগ্ন বনশ্রী হাউজিংয়ের খালি জায়গায়, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের খালি জায়গা এবং গোলাপবাগ আউটার স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের খালি জায়গায়ও কোরবানির পশুর হাট বসবে।

অন্যদিকে গাবতলী স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবে আরো ১৫টি অস্থায়ী পশুর হাট।

ডিএনসিসির অস্থায়ী হাটগুলো হবে মিরপুর সেকশন-৬ (ইস্টার্ন হাউজিং) এলাকায়, মিরপুর কালশী বালুর মাঠের ১৬ বিঘা খালি জায়গায়, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন এলাকায়, মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার সংলগ্ন খালি জায়গায় এবং পূর্ব হাজীপাড়ায় ইকরা মাদরাসার পাশের খালি জায়গায়।

এছাড়া মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট রাস্তা-সংলগ্ন খালি জায়গায়, উত্তরা দিয়াবাড়ির ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন বউবাজার এলাকায়, ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদরাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানাভোলা অ্যাভিনিউ-সংলগ্ন উত্তরা রানাভোলা স্লুইসগেট পর্যন্ত এলাকায়, কাঁচকুড়া বাজারসংলগ্ন রহমান নগর আবাসিক এলাকায়, মস্তুল চেকপোস্ট-সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ায়, ভাটারা সুতিভোলা খাল-সংলগ্ন খালি জায়গায়, বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা, মহাখালি টিঅ্যান্ডটি মাঠের জায়গা, বাড্ডা থানাধীন স্বদেশ প্রপার্টিও খালি জায়গা এবং বড় বেরাইদ বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গায় পশুর হাট বসবে।

উত্তর সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বাসসকে জানান, এখন পর্যন্ত সাতটি হাটের সরকারি দরের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। বাকি দরপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিগগিরই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

দুই সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, ঘোষিত ঈদুল আজহার দিনসহ মোট পাঁচ দিন এসব হাটে পশু কেনা-বেচা চলবে। তবে প্রতিবছরের মতো এবারো নির্ধারিত সময়ের আগেই অনেক হাটে পশু বেচাকেনা শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অতীতে ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে নির্ধারিত সময়ের আগে থেকেই ব্যবসায়ীরা পশু আনা ও বিক্রি শুরু করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক পশু পরিবহন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবারো দুই সিটি করপোরেশনকে বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশেষ করে অস্থায়ী হাটগুলোতে নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ, বর্জ্য অপসারণ এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

সূত্র : বাসস