সংসদে বিরোধী বেঞ্চেও মুক্তিযোদ্ধা আছেন: স্পিকার

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের বেঞ্চেও মুক্তিযোদ্ধা আছেন বলে জানিয়েছেন স্পিকার মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

সংসদ প্রতিবেদক

Location :

Dhaka City
সংসদে বিরোধী বেঞ্চেও মুক্তিযোদ্ধা আছেন: স্পিকার
সংসদে বিরোধী বেঞ্চেও মুক্তিযোদ্ধা আছেন: স্পিকার |নয়া দিগন্ত

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের বেঞ্চেও মুক্তিযোদ্ধা আছেন বলে জানিয়েছেন স্পিকার মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, সরকারি দলের বেঞ্চে বহু মুক্তিযোদ্ধা আছেন। বিরোধীদলের মধ্যে এটা খুঁজে পাওয়ার সুযোগ নেই। এ পর্যায়ে বগুড়া থেকে নির্বাচিত বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যের বক্তব্য প্রসঙ্গে স্পিকার এ কথা জানান।

এ সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১০ম দিনের কার্যক্রম শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টায়। দুপুরে জোহর নামাজে বিরতির আগে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু ঘোষণা দেননি, যুদ্ধও করেছেন এবং দেশ স্বাধীন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।’

সরকারি দলের বেঞ্চে বহু মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি জয়নাল আবেদীন ফারুক, মইনুল হক চৌধুরী, সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন। তার দাবি, ‘সরকারি দলের বেঞ্চে প্রথিতযশা মুক্তিযোদ্ধারা আছেন, যা বিরোধীদলের মধ্যে খুঁজে পাওয়ার সুযোগ নেই।’

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে হস্তক্ষেপ করে বলেন, ‘বিরোধী দলের বেঞ্চেও মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। আমি নিজেই রণাঙ্গনে দেখেছি সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা।’ পরে তিনি প্রতিমন্ত্রীকে বক্তব্য চালিয়ে যেতে বলেন।

বক্তব্যে মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন—এই তিনটি ঐতিহাসিক অধ্যায় ধারণ করে। ‘এই তিন আন্দোলনের ‘ট্রফি’ বিএনপির ঘরেই রয়েছে,’ দাবি করেন তিনি।

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই আন্দোলনের ক্যাপ্টেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা কারো কাছে ট্রফি আনতে যাইনি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে আমাদের ক্যাপ্টেন তারেক রহমানের সাথে আলোচনা করে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছেন। এতে প্রমাণিত হয় আন্দোলনের নেতৃত্ব কার ছিল।’

রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়েও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মাধ্যমে সংসদে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে—যা বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন।

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি ইতোমধ্যে জনমনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কৃষক কার্ড আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইল সদর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে বলেও জানান তিনি।