ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের মুগদা থানা পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের যৌথ অভিযানে সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনাকে (৩১) গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ সকালে নরসিংদীর শিবপুর থানার জয়নগর এলাকায় তার বোন শিল্পী আক্তারের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গত ১৩ মে মোকাররম সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন এবং মুগদার মান্ডা এলাকায় তাসলিমার বোন হেলেনা বেগমের ভাড়া বাসায় ওঠেন। ১৭ মে দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ মান্ডার একটি ভবনের নিচে আবর্জনার স্তূপ থেকে কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় তার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে। পরে পিবিআইয়ের সহায়তায় লাশের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে, র্যাব ১৮ মে মামলার এজাহারনামীয় আসামি হেলেনা বেগম ও তার কিশোরী মেয়ে হালিমাকে গ্রেফতার করে। আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে হেলেনা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং তার দেখানো মতে মানিকনগর বালুর মাঠ থেকে ভিকটিমের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, পুলিশি তদন্ত এবং আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ভিকটিম মোকাররমের সাথে আসামি তাসলিমার দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল এবং সম্পর্কের সূত্রে তাসলিমা ভিকটিমের নিকট থেকে বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট পাঁচ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। গত ১৪ মে দুপুর আনুমানিক ১২টায় ভিকটিম উক্ত টাকা ফেরত চান এবং তাসলিমাকে তার স্বামী সুমনকে ছেড়ে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। তাসলিমা টাকা ফেরত দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে উভয়ের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়ার সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাসলিমা ভিকটিমকে পানির সাথে ঘুমের ঔষধ সেবন করিয়ে তন্দ্রাচ্ছন্ন করেন। পরে তাসলিমা, তার বোন হেলেনা এবং ভাগ্নি হালিমা আক্তারের সহায়তায় ধারালো বটি ও হাতুড়ি দিয়ে মোকাররমের মাথায়, ঘাড়ে ও গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে এবং লাশ গুমের উদ্দেশ্যে তারা বাথরুমে নিয়ে ধারালো চাকু দিয়ে ভিকটিমের মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করে রক্ত ধুয়ে ফেলে এবং খণ্ডিত অংশগুলো কালো পলিথিনে মুড়িয়ে মানিকনগর বালুর মাঠ ও মান্ডার একটি ভবনের নিচের আবর্জনার স্তূপে ফেলে আসে। অপরাধ সংঘটন শেষে প্রধান আসামি তাসলিমা ভিকটিমের ল্যাগেজ ও তার চার বছরের শিশুকে নিয়ে নরসিংদীতে আত্মগোপন করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, এ ঘটনায় ভিকটিমের চাচা মুগদা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতার তাসলিমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ চলছে। পাশাপাশি অন্য কোনো অজ্ঞাত আসামি জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



