অধিকতর দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য আরো জনবল ও সুযোগ-সুবিধা চেয়েছে দেশের প্রধান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আজ মঙ্গলবার পিবিআই প্রধান এবং পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরো গতিশীলতা ও দক্ষতা নিশ্চিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দু’টি পৃথক প্রস্তাব পাঠিয়েছি। সেখানে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনের দাবিও জানানো হয়েছে।’
জটিল ও চাঞ্চল্যকর অপরাধ তদন্তে উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ জনবল নিয়ে ২০১২ সালে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে পিবিআই যাত্রা শুরু করে। শুরুতে এই ইউনিটের জনবল ছিল ৯৭০ জন।
অপরাধস্থল (ক্রাইম সিন) ব্যবস্থাপনা, আলামত সংগ্রহ এবং দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে এই ইউনিট বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। এছাড়া পিবিআইয়ের একটি বিশেষ শাখা রয়েছে। সেখানে দক্ষ কর্মকর্তারা জঙ্গিবাদ দমন, সাইবার অপরাধ, সংগঠিত অপরাধ এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ তদন্তে কাজ করেন।
মোস্তফা কামাল জানান, বর্তমানে পিবিআইয়ের জনবল দুই হাজার ৩১ জন। এবার তারা আরো পাঁচ হাজার কর্মকর্তা নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪২টিতেই ভাড়া বাড়িতে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংস্থাটি।
অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ছাড়াও পিবিআইয়ের বর্তমান জনবলের মধ্যে রয়েছেন দু’জন উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি), পাঁচজন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৪৯ জন বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি), ২৮ জন অতিরিক্ত এসএসপি, আটজন এএসপি, ৩২২ জন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর), পাঁচজন সার্জেন্ট, ৪৮৩ জন উপ-পরিদর্শক (এসআই), ৩৩৫ জন এএসআই, ২০ জন নায়েক এবং ৬২২ জন কনস্টেবল।
ইউনিটটির পরিবহন সুবিধার মধ্যে রয়েছে ১৪টি জিপ (এসইউভি), ৭১টি পিকআপ, ১৯০টি মোটরসাইকেল, আটটি ট্যাক্সিক্যাব, সাতটি অ্যাম্বুলেন্স, চারটি মাইক্রোবাস, দু’টি করে ট্রাক ও ক্রাইম সিন ম্যানেজমেন্ট ভ্যান এবং একটি করে বাস, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ভ্যান, হাই-রিস্ক অপারেশন ভ্যান, কার ও প্রিজন ভ্যান।
সংস্থাটির প্রধান বলেন, ‘জনবল ও সুযোগ-সুবিধা বাড়লে পিবিআই দেশের ৬৪টি জেলাতেই তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।’
তিনি জানান, নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ২০টি সরকারি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণ ভাড়াবাড়িতে দাফতরিক কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
পিবিআই প্রধান বলেন, কয়েক মাস আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৃথক দু’টি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং এখন তারা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। কাঙ্ক্ষিত জনবল ও নিজস্ব ভবন পেলে আন্তর্জাতিকমানের তদন্ত নিশ্চিত করা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, জনবল ও সক্ষমতা বাড়লে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এতে ভুক্তভোগীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন এবং আইনের শাসন আরো সুসংহত হবে।
পিবিআইয়ের দাবির বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের (পিএইচকিউ) এক কর্মকর্তা জানান, গত ১৯ এপ্রিল আইজিপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের একটি সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আসন্ন পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হবে।
সূত্র : বাসস



