সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় মঙ্গলবার দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে ১০ জন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়। আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত এই মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ |ইন্টারনেট

হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আরো ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

এদের বিরুদ্ধে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ হয়।

এর আগে, গত ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো: মশিউর রহমান চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন।

মামলার আসামিরা হলেন সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (৫৬), তার স্ত্রী ইউসিবিএল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান (৪৬), সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী (৪৬) ও রোকসানা জামান চৌধুরী (৫৬)।

সাবেক পরিচালকদের মধ্যে আরো আছেন বশির আহমেদ (৫৫), আফরোজা জামান (৪৮), সৈয়দ কামরুজ্জামান (৬১), মো: শাহ আলম (৬২), মো: জোনাইদ শফিক (৬৪), অপরূপ চৌধুরী (৬৫), তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান (৬৬), ইউনুছ আহমদ (৭৯), হাজী আবু কালাম (৭৯), নুরুল ইসলাম চৌধুরী (৬২) এবং সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর (৭৭) ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরী (৬৪)।

ব্যাংকটির সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ (৫১), আবদুল হামিদ চৌধুরী (৫০), আবদুর রউফ চৌধুরী, জিয়াউল করিম খান (৪৬), মীর মেসবাহ উদ্দীন হোসাইন (৬২) ও বজল আহমেদ বাবুল (৫৬)।

জাবেদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরী (৫১), মোহাম্মদ মিছবাহুল আলম (৫০), আব্দুল আজিজ (৩৯), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (৫৪), মোহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী (৪৮), ইয়াছিনুর রহমান (৪৩), ইউছুফ চৌধুরী (৪৫) ও সাইফুল ইসলাম (৪৫), আরামিট গ্রুপের এজিএম উৎপল পাল (৫১), প্রদীপ কুমার বিশ্বাস (৫১), মো: জাহিদ (৪৫), মো: শহীদ (৪৯), মো: সুমন (৩৯), ইলিয়াস তালুকদার (৫০) ও ওসমান তালুকদার (৪৮)।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন বলেন, সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় মঙ্গলবার দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে ১০ জন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়। আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত এই মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

আগামী ৫ মে মামলার পরবর্তী সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে নামসর্বস্ব ভিশন ট্রেডিং নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে ইউসিবিএল থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীতে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ তার কর্মচারীদের মাধ্যমে সেই টাকা উত্তোলন করে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি কিনে নেন।

২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ৪(২) ও ৪ (৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন মর্মে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।

২০২৫ সালের ২৪ জুলাই জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো: মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি করেছিলেন।

মামলার ৩১ আসামির মধ্যে দু’জন মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেয়ার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে সুপারিশ করেছেন। এরা হলেন ইউসিবিএল’র সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল ও কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম নামে জাবেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী।

বাকি ২৯ জনের সাথে তদন্তে পাওয়া সাতজনসহ মোট ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল দুদক। অভিযোগপত্রে ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।