আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র ও সঙ্ঘাতের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণে একটি নাম অবধারিতভাবে সামনে আসে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে সাম্প্রতিক গভীর পর্যবেক্ষণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণগুলো ভিন্ন সত্যের দিকে ইঙ্গিত করছে। ইসরাইলের বর্তমান নীতি ও আগ্রাসী অবস্থানের মূলে কি আছে কেবল এক ব্যক্তির রাজনৈতিক উচ্চাকাক্সক্ষা? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরো গভীর কোনো সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক কাঠামো? বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ বলছে, ইসরাইলি সঙ্কটের উৎস কোনো একক নেতাকে কেন্দ্র করে নয়, বরং এটি একটি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার চিরস্থায়ী লড়াই, গভীর নিরাপত্তাহীনতা এবং ঐতিহাসিকভাবে প্রোথিত এক বিশেষ মানসিকতার সম্মিলিত বহিঃপ্রকাশ।
কাঠামোগত নির্যাতন ও সামাজিক দায়
রামোনা ওয়াদি "Torture, Genocide and Erasure" শিরোনামের এক বিশ্লেষণে ইসরাইলি নীতি সম্পর্কে এক অস্বস্তিকর সত্য তুলে ধরেন। ফ্রান্সেসকা আলবানেজে-এর জাতিসঙ্ঘ প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তিনি উল্লেখ করেন, ইসরাইলি ব্যবস্থার মধ্যে নির্যাতন কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক ঘটনা নয়। এটি একটি কাঠামোগত প্রক্রিয়া, যা ফিলিস্তিনি সমাজকে শারীরিকভাবে ভেঙে দেয়া এবং সামাজিকভাবে মুছে ফেলার বৃহত্তর কৌশলের অংশ। আন্তর্জাতিক আইনে নির্যাতন গুরুতর অপরাধ। কিন্তু আলবানেজে দেখিয়েছেন, যখন কোনো গোষ্ঠীকে আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পদ্ধতিগতভাবে শারীরিক ও মানসিক ভাঙন সৃষ্টি করা হয়, তখন তা ‘গণহত্যা’র উপাদানে পরিণত হতে পারে। গাজা উপত্যকায় হাসপাতাল ধ্বংস করা, খাদ্যসঙ্কট তৈরি এবং গণ-উচ্ছেদ এই ‘বিস্তৃত নির্যাতন’-এর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নীতি কেবল সরকারের নয়, বরং একটি ‘সমষ্টিগত দায়’-এর রূপ নিয়েছে। ইসরাইলের আইনসভা, বিচারব্যবস্থা এবং গণমাধ্যম অনেক সময় এই দমনমূলক নীতিগুলোকে নিরাপত্তার খাতিরে জায়েজ বা বৈধ ঘোষণা করে, যা সমাজের একটি বড় অংশের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।
ভয়ের মনস্তত্ত্ব : রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ
ইসরাইলের হার্টজ পত্রিকার এক কলামে বলা হয়, ইসরাইলি সমাজের বড় অংশ বিশ্বাস করে, তারা সর্বদা সম্ভাব্য ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে। এই মনস্তত্ত্বের শিকড় গভীরে প্রোথিত, যার প্রধান উৎস ‘হলোকাস্ট’-এর স্মৃতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেই বিভীষিকা কেবল ইতিহাস নয়, বরং ইসরাইলি রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের মূল স্তম্ভ। এই ঐতিহাসিক ট্রমা থেকে জন্ম নিয়েছে এক বিশেষ ‘অস্তিত্ববাদী সঙ্কট’। ফলে, ইসরাইল বাস্তব বা সম্ভাব্য, যেকোনো নিরাপত্তা হুমকি তীব্রভাবে অনুভব করে। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই মানসিকতাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে অত্যন্ত পারদর্শী। সম্প্রতি তিনি ইরানের ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনাকে আউশউইৎস কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের সাথে তুলনা করেন। এটি নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; এটি ইসরাইলিদের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আবেগনির্ভর একটি উপমা, যা ইসরাইলি জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ভয় ও ঐতিহাসিক স্মৃতিকে মুহূর্তে জাগিয়ে তোলে। বিষয়টি আর কোনো কূটনৈতিক আলোচনা থাকে না, তা হয়ে ওঠে অস্তিত্ব রক্ষার চূড়ান্ত যুদ্ধ। এই ভাষ্যের কারণে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও অনেক সময় নেতানিয়াহুর কঠোর অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস পান না, বরং নিজেরাও প্রায় একই ধরনের উগ্র বক্তব্য ব্যবহার করে জনসমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করেন।
নিয়ন্ত্রণভিত্তিক নিরাপত্তা মডেল : লেবানন ও পশ্চিমতীর
লেবানন ও গাজাকে ঘিরে ইসরাইলের সাম্প্রতিক কৌশল বিশ্লেষণ করলে একটি সুস্পষ্ট প্যাটার্ন লক্ষ করা যায়। অনেক বিশ্লেষক একে ‘নিয়ন্ত্রণভিত্তিক নিরাপত্তা মডেল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই ধারণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নিরঙ্কুশ শক্তি প্রয়োগ এবং প্রতিপক্ষের সক্ষমতা এমনভাবে ধ্বংস করা, যাতে দীর্ঘমেয়াদে তারা আর কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে না পারে। পশ্চিমতীরে ইসরাইলের নীতি দীর্ঘদিন ধরেই এই কৌশলের ওপর দাঁড়িয়ে। সেখানে নিয়মিত সামরিক উপস্থিতি, চেকপোস্ট এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে এমন একটি স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ ক্ষমতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে। সিরিয়াতেও ইসরাইল একইভাবে ‘প্রিএম্পটিভ স্ট্রাইক’ বা আগাম আঘাত হানার নীতি অনুসরণ করে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র সরবরাহের পথ রুদ্ধ করে দেয়। ২০২৪ সালের শেষের দিকে লেবাননে যুদ্ধবিরতির পর একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ হতে পারত কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা আনা। কিন্তু বাস্তবে ইসরাইল সেখানেও একই ‘নিয়ন্ত্রণ মডেল’ প্রয়োগ করতে চাইছে। যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি বাহিনী অভিযানে সক্রিয় থেকেছে, এমনকি কূটনৈতিক বৈঠকের সময়ও বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। এই কৌশলগত ‘টুলবক্স’-এ কঠোর সামরিক পদক্ষেপই প্রাধান্য পায়; যেখানে রাজনৈতিক ছাড় বা আস্থার পরিবেশ তৈরির মতো বিষয়গুলো চরমভাবে উপেক্ষিত থাকে।
ত্রিপক্ষীয় টানাপড়েন : নেতানিয়াহু, ট্রাম্প ও ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণটি এখন আর কেবল ইসরাইল ও তার প্রতিবেশীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি মূলত তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শনের এক জটিল সঙ্ঘাত। এই ত্রিভুজ দ্বন্দ্বে প্রতিটি পক্ষই কৌশলে এ অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। প্রথমত, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘নিরাপত্তা-আধিপত্য’ দর্শন : নেতানিয়াহুর কৌশলের মূল ভিত্তি হলো ইসরাইলের নিরঙ্কুশ সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব। তিনি বিশ্বাস করেন, আলোচনার নয়, সামরিক শক্তিই টিকে থাকার একমাত্র গ্যারান্টি। তার লক্ষ্য হলো, প্রতিপক্ষ রাষ্ট্র ও গোষ্ঠীগুলোকে সর্বদা সামরিক চাপের মুখে রাখা এবং তাদের সক্ষমতাকে এমনভাবে গুঁড়িয়ে দেয়া যাতে তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে না পারে। তার এই ‘প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক’ বা আগাম আঘাত হানার নীতি অঞ্চলটিকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘নিয়ন্ত্রিত শক্তিপ্রয়োগ’ : ট্রাম্পের অবস্থান নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মনে হলেও কৌশলগতভাবে এটি ভিন্ন। ট্রাম্প ‘শক্তি প্রদর্শন’ এবং অর্থনৈতিক চাপ পছন্দ করলেও সরাসরি দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়ানোর ঘোর বিরোধী। সম্প্রতি লেবাননে বড় ধরনের হামলার বিষয়ে ইসরাইলকে তার প্রকাশ্যে সতর্ক করা এটিই প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্ঘাতকে একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে যেতে দিতে চান না। তার নীতি মূলত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’, যেখানে নিঃশর্ত সামরিক সমর্থনের চেয়ে মার্কিন স্বার্থই বেশি গুরুত্ব পায়। তৃতীয়ত, ইরানের ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ কৌশলটি সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে না গিয়ে এক ধরনের হিসাবি চাপ সৃষ্টির পদ্ধতি। ইরান মূলত ‘অসম যুদ্ধ’ কৌশল ব্যবহার করে, যেখানে তুলনামূলক দুর্বল শক্তি অপ্রচলিত উপায়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। এ লক্ষ্যে হিজবুল্লাহ, হামাস এবং ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন-এর মতো মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করা হয়। এই গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে সীমান্তে উত্তেজনা, রকেট ও ড্রোন হামলা এবং সামরিক চাপ তৈরি করে ইরান সরাসরি সঙ্ঘাতে না গিয়েও প্রতিপক্ষকে ব্যস্ত রাখে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রভাব খাটিয়ে তারা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করতে পারে- যা আন্তর্জাতিক পরিসরে তাদের কৌশলগত গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে তোলে। সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর আধিপত্যবাদ, ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রিত শক্তিপ্রয়োগ এবং ইরানের প্রতিরোধ কৌশলের এই টানাপড়েন মধ্যপ্রাচ্যকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই তিন দর্শনের লড়াইয়ে কে বিজয়ী হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্বরাজনীতির ভবিষ্যৎ।
অর্থনীতির ওপর প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ সঙ্কট
রাজনীতির এই পথ কেবল সামরিক সঙ্ঘাতই বাড়ায়নি, বরং ইসরাইল ও তার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অর্থনীতিতে গভীর অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা, ডলার সঙ্কট এবং পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখন আকাশচুম্বী। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতা বিশ্ব
অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যার সরাসরি খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের। ইসরাইলের ভেতরেও অনেক প্রগতিশীল মানুষ ও অর্থনীতিবিদ মনে করেন, এই স্থায়ী যুদ্ধাবস্থা তাদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। প্রতিরক্ষা খাতে বাজেটের বিশাল অংশ ব্যয় হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন অবহেলিত হচ্ছে। কিন্তু ইসরাইলি সমাজের গভীর স্তরে যুদ্ধের জাতীয় মনস্তত্ত্ব এবং অস্তিত্ব রক্ষার ভীতি এতটাই প্রবল যে, সেখানে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির যুক্তির চেয়ে ‘নিরাপত্তার ভীতি’ সবসময়ই রাজনৈতিকভাবে জয়ী হয়। সাধারণ মানুষ দিনশেষে পকেটের স্বস্তির চেয়ে কথিত সামরিক সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেয়, যা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পরিবর্তে কেবল সঙ্ঘাতের চক্রকেই প্রলম্বিত করছে। এই বাস্তবতায় অর্থনৈতিক যুক্তি ও মানবিক উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করে কেবল উগ্র জাতীয়তাবাদই রাজনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক চাপ ও ভবিষ্যতের পথ
ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আকাক্সক্ষা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে বর্তমানে এক নজিরবিহীন টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। একদিকে ইসরাইলের বেশির ভাগ ভোটার কঠোর সামরিক প্রতিশোধ এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখার পক্ষ নিচ্ছে; অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ খোদ যুক্তরাষ্ট্রের মতো ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও আঞ্চলিক মহাযুদ্ধ এড়াতে সঙ্ঘাত সীমিত করার জন্য ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে। এই দ্বিমুখী পরিস্থিতি ইসরাইলি নীতিনির্ধারকদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কেবল নেতৃত্বের রদবদলের ওপর নয়, বরং ইসরাইলি সমাজের ‘নিরাপত্তা-ধারণা’ বা সিকিউরিটি পারসেপশনের আমূল পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করছে। প্রশ্ন উঠেছে, সামরিক আধিপত্য কি আসলেই দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিশ্চিত করতে পারে? ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সামরিক শক্তি দিয়ে সাময়িকভাবে কোনো শক্তিকে দমন করা বা ভূখণ্ড দখল করা সম্ভব হলেও, প্রকৃত ও স্থায়ী শান্তি আসে কেবল সামাজিক স্বীকৃতি ও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে। ইসরাইলের বর্তমান নীতি যদি কেবল পেশিশক্তির প্রদর্শন এবং প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে আরো বড় ও ভয়াবহ সঙ্ঘাতের বীজ বপন করবে। কারণ, কঠোর দমনপীড়ন ও অবরোধ অবদমিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও নতুন প্রজন্মের প্রতিরোধ যুদ্ধের জন্ম দেয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো নেতারাও এখন ইসরাইলকে সংযত হওয়ার যে বার্তা দিচ্ছেন, তা মূলত এই বাস্তব উপলব্ধিরই ফলশ্রুতি। নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে, ইসরাইলকে যুদ্ধের মনস্তত্ত্ব থেকে বেরিয়ে এসে আঞ্চলিক সমন্বয় ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটতে হবে। অন্যথায়, সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের এই অহমিকা একদিন খোদ ইসরাইলের জন্যই বড় ধরনের কৌশলগত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এ কারণে অনেক ইসরাইলি নেতা অতীতের মতো তাদের দেশটির অষ্টম দশকে এসে বিলুপ্তির আশঙ্কা করেন। আর ইসরাইলের জনগণের বড় অংশ এখন মনে করছেন, প্রকৃত নিরাপত্তা প্রতিবেশীদের সাথে আস্থার সম্পর্ক গড়ার মধ্যেই নিহিত। তারা ফিলিস্তিনিদের সাথে রাষ্ট্রীয় সহাবস্থানের পক্ষে। কিন্তু এদের সংখ্যা ইসরাইলে এখনো গরিষ্ঠ হয়ে ওঠেনি। উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, ইসরাইলি রাজনীতি একটি দীর্ঘ, জটিল এবং অবিশ্বাসে ভরা পথ অতিক্রম করছে। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই মনস্তাত্ত্বিক কাঠামোর এক নিপুণ প্রতিনিধি মাত্র। তিনি থাকলেই এই নীতি চলবে, আর তিনি গেলেই পরিস্থিতি আমূল বদলে যাবে- এমনটা ভাবা বোকামি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন শুধু যুদ্ধবিরতির দিকে তাকালে হবে না, বরং এই অবিশ্বাসের জট খোলার জন্য শক্তিশালী সংলাপে জোর দিতে হবে। অন্যথায়, লেবানন, গাজা বা পশ্চিমতীর, সবই হবে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার চক্র, যার খেসারত দিতে হবে পুরো বিশ্বের সাধারণ মানুষকে। অশান্তির এই ধোঁয়াশার মাঝেও কূটনীতির দরজা খোলা রাখাই হতে পারে আগামীর জন্য একমাত্র আশার আলো। সেটি বারবার হোঁচট খাচ্ছে নেতানিয়াহুর মতো ব্যক্তিদের উগ্রতার জন্য।
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত



