ইউনেস্কোর নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ড. খালেদ এল এনানি বলেছেন, ‘শিক্ষাজীবনই তরুণ প্রজন্মের মাতৃভাষা ও বহুভাষাবাদ চর্চা করার উপযুক্ত সময়। ইউনেস্কো বাংলাদেশের সাথে পরামর্শক্রমে এবং অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের অংশগ্রহণে মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও প্রসারে কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।’
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ফ্রান্সের প্যারিসস্থ ইউনেস্কোর সদর দফতরে আয়োজিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।
বিশ্বব্যাপী মাতৃভাষা সংরক্ষণে অসামান্য অবদান রাখার জন্য মহাপরিচালক বাংলা ভাষায় দেশটির রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে অভিবাদন জানান। মিশরের নাগরিক ড. এনানি তার নিজ মাতৃভাষা আরবিতে এই বক্তব্য প্রদান করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই প্রথমবারের মতো ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের সভাপতি, নির্বাহী পর্ষদের চেয়ারপারসন ও মহাপরিচালক অংশগ্রহণ করেন। ইউনেস্কোর এই শীর্ষ তিন কর্মকর্তার বিরল উপস্থিতি বাংলাদেশের এই আয়োজনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইউনেস্কো সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও সংস্থাটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা।
এ সময় খন্দকার এম তালহা বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে বিশ্বের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইউনেস্কোর কার্যক্রম তাদের নিজ নিজ ভাষায় পৌঁছে দেয়া জরুরি।’
এ লক্ষ্যে মাতৃভাষা সংরক্ষণে একটি বলিষ্ঠ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের জন্য তিনি ইউনেস্কোকে আহ্বান জানান এবং এই কাজে তরুণদের সম্পৃক্ত করার জন্য তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে উদ্বুদ্ধ করেন।
এছাড়াও নির্বাহী পর্ষদের সভাপতি কাতারের রাষ্ট্রদূত নাসের হিনজাব মাতৃভাষা সংরক্ষণে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এবং এই বছরের আয়োজনের জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।
এই বছরের আয়োজনের প্রথমভাগে ‘শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে ভাষার ভূমিকা’ শিরোনামে একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় তাঞ্জানিয়ার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী ও পূর্ব তিমুরের শিক্ষামন্ত্রী অংশগ্রহণ করেন। তাঞ্জানিয়ার মন্ত্রী তার নিজ মাতৃভাষা সোয়াহিলিতে বক্তব্য প্রদান করেন।
এছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকার ইনকা সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা ‘কেচুয়া’ ভাষাবিদ এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য প্রদান করেন স্পেনের ভাষা গবেষক প্রফেসর ড্যামিয়েন ব্লাসি। সব আলোচক তাদের বক্তব্যের কিছু অংশে নিজ নিজ মাতৃভাষা ব্যবহার করেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের এই আয়োজনে ইউনেস্কো যেন বিশ্ব ভাষায় এক জীবন্ত চিত্র ধারণ করে।
দিবসটির শেষ ভাগে জমকালো সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনে বাংলাদেশের পাশাপাশি লুক্সেমবুর্গ, আজারবাইজান, মলদোভা, ইউক্রেন, শ্রীলঙ্কা, ব্রাজিল ও প্যারিসস্থ বহুভাষাভিত্তিক একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ থেকে আগত শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর ফোক সংগীত উপস্থিত সব কূটনীতিক ও দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।
এই আয়োজনে প্রায় দুই শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশী অংশগ্রহণ করেন। বাংলা ভাষা ও সর্বোপরি মাতৃভাষা সংরক্ষণে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা সব প্রবাসীকে গর্বিত করেছে, এমন মতামত ব্যক্ত করেছেন প্রবাসীরা।



