মালয়েশিয়ায় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে ড. মিজানুর রহমান আজহারি

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএমসির প্রধান সমন্বয়ক মো: মোরাদ হেসেন। এ সময় ৪২১ মিটার উঁচু টাওয়ারের বলরুমে ২৭০ অনুসারী ও বিশ্বজয়ী কোরআনে হাফেজ মো: আবু রায়হান উপস্থিত ছিলেন।

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া
বাংলাদেশ মালয়েশিয়া মুসলিম কমিউনিটির (বিএমসি) উদ্যোগে  ইফতার ও দোয়া মাহফিল
বাংলাদেশ মালয়েশিয়া মুসলিম কমিউনিটির (বিএমসি) উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল |নয়া দিগন্ত

মালয়েশিয়ায় প্রথমবারের মতো রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবস্থিত ৪২১ মিটার উঁচু পর্যটনকেন্দ্র খ্যাত হেমিসফেরা লাক্সারী স্কাই হল কেএল টাওয়ারে ‘রমাদান রিফ্লেকশন-২০২৬ ইফতার ও দোয়া মাহফিল’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ইসলামিক স্কলার শায়েখ ড. মিজানুর রহমান আজহারি।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ মালয়েশিয়া মুসলিম কমিউনিটির (বিএমসি) উদ্যোগে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএমসির প্রধান সমন্বয়ক মো: মোরাদ হেসেন। এ সময় ৪২১ মিটার উঁচু টাওয়ারের বলরুমে ২৭০ অনুসারী ও বিশ্বজয়ী কোরআনে হাফেজ মো: আবু রায়হান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আজহারি বলেন, ‘রাসুল (সা:)-এর তেলাওয়াত শুনে অনেক জীন মুসলিম হয়েছে। আয়েশা (রা:) বলেন, মাঝরাতে কোরআন তেলাওয়াত করতে করতে জমিন ভিজিয়ে দিতেন চোখের পানিতে। রাসুল (সা:) বলেন, ওজুসহ এবং ওজু ছাড়া সব সময় কোরআন তেলাওয়াত করতেন। তবে ফরজ গোসলের সময় ব্যতিত সব সময়ই কোরআন তেলাওয়াত করতেন। সূরা বাকারা পড়লে কোনো ব্ল্যাক ম্যাজিক কাজ করবে না। কোনো জাদুকর জাদু করতে পারবে না। সাতটি আরবি আঞ্চলিক ভাষায় কোরআন নাযিল হয়েছে। আল্লাহ বলেছেন সাতটি ভাষার যেটি সহজ, সেই ভাষায় কোরআন পড়া যাবে।’

তিনি বিস্তারিত আলোচনা শেষে আরো বলেন, ‘মানবতার কল্যাণে সারা বাংলাদেশে কোরআন ও সূন্নাহর আলোকে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হাসানাহ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য সর্বসাধারণের কাছ থেকে প্রাপ্ত অনুদান ও যাকাতের অর্থে তহবিল গঠন করে সারা বাংলাদেশে যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই বা সংখ্যায় কম, সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ এবং এই শিক্ষার বিপ্লব ঘটাতে এ খাতে সার্বিক সহায়তা করা। ইতোমধ্যে এর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশেষ করে সব জেলা-উপজেলার পাশাপাশি দুর্গম অঞ্চল, উপকূলীয়, নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল, হাওর, দরিদ্র অঞ্চলগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এই ফাউন্ডেশনে যে কেউ অর্থ প্রদান করতে পারবেন, এর জন্য ব্যাংক, বিকাশ ও রকেট অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।’

ড. মিজানুর রহমান আজহারি প্রত্যক্ষভাবে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। হাসানাহ ফাউন্ডেশন একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক সরকার নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান। কার্যক্রমগুলো হচ্ছে- শিক্ষা সহায়ক উপকরণ বিতরণ, কোরআন অলিম্পিয়াড, সিরাত অলিম্পিয়াড, শিক্ষাবৃত্তি, মক্তবভিত্তিক কার্যক্রম, সিরাহ মিউজিয়াম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দাওয়াহ ও রিসার্চ।