বাঁধভাঙা আনন্দে প্যারিসে ঈদুল ফিতর উদযাপন

প্রবাসে থেকেও নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে বাংলাদেশীরা এ ধরনের আয়োজন করে থাকেন, যা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতি ও ইসলামী মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন, প্যারিস (ফ্রান্স)
প্যারিসে ঈদের জামাত, (ডানে) ঈদ আনন্দ মেলা
প্যারিসে ঈদের জামাত, (ডানে) ঈদ আনন্দ মেলা |নয়া দিগন্ত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ফ্রান্সের রাজধানী প‍্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে বসবাসরত বাংলাদেশী মুসলিম সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপন করেছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদ উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জামাত ও আনন্দমেলার আয়োজন করা হয়।

প্যারিসে বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর নিকটবর্তী স্তাঁ-এ অবস্থিত বাংলাদেশ কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে, যা প্রবাসী বাংলাদেশীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র। প্রতি বছরের মতো এবারো এখানে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে প্রতি ৪৫ মিনিট অন্তর জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে শেষ হয় সকাল সাড়ে ১০টায়। নারীদের জন্যও আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়।

এছাড়া লা কুরনেভ এলাকায় খোলা মাঠ ও ভাড়া করা হলরুমে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সাঁ-দেনি এলাকাতেও একাধিক ছোট জামাতের আয়োজন করা হয় প্রবাসী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে।

বৃহত্তর মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ঐতিহ্যবাহী গ্রঁদ মস্কো দ‍্য প‍্যারিস-এ প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায় ও পৌনে ৯টায়। এখানে বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া সাখর্সেল-এর ইন্ডোর স্টেডিয়ামসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরের মসজিদেও ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

ওবেরভিলিয়ে বাংলাদেশী জামে মসজিদেও সকাল সোয়া ৭টায় প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লিঁও শহরে এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশীরা সম্মিলিতভাবে ঈদের জামাত আয়োজন করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অংশগ্রহণকারীদের মতে, এটি ছিল একটি সুশৃঙ্খল ও সম্প্রীতিময় আয়োজন, যা কমিউনিটির ঐক্যের প্রতিফলন।

একইভাবে মার্সাই, তুলুজ ও স্ত্রাসবুর্গ শহরেও বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদের নামাজ শেষে শুরু হয় আনন্দ উৎসব। পার্ক দ‍্য লা ভিলেত-এ অনুষ্ঠিত ‘ঈদ ফেস্টিভ্যাল প্যারিস-২০২৬’ ছিল অন্যতম আকর্ষণ। এখানে খাবারের স্টল, পোশাকের দোকান, শিশুদের বিনোদন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এছাড়া প্লাস দ‍্য ফেত এলাকাতেও ঈদ আনন্দমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ওবেরভিলিয়ে এলাকাতেও বিভিন্ন কমিউনিটির উদ্যোগে মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

আয়োজকদের মতে, প্রবাসে থেকেও নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে বাংলাদেশীরা এ ধরনের আয়োজন করে থাকেন, যা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতি ও ইসলামী মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সব মিলিয়ে প্যারিসে বাংলাদেশীদের ঈদ উদযাপন শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি পরিণত হয়েছে এক মিলনমেলায়, যেখানে প্রবাস জীবনে দেশের আবহ অনুভবের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।