বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) নবনিযুক্ত ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) যোগদানের দিনেই পদোন্নতির দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। যোগদানের পর শিক্ষকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তারা এই দাবি জানান।
শুক্রবার (১৫ই মে) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন সপ্তম ভিসি অধ্যাপক ড. মো: মামুন অর রশিদ।
যোগদানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
পরে এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষকরা পদোন্নতির জটিলতার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সঙ্কটের চিত্র তুলে ধরেন।
শিক্ষকরা নবনিযুক্ত ভিসির প্রতি এই সঙ্কট ও পদোন্নতি জটিলতা নিরসনে আস্থা রাখার কথা ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: হাফিজ আশরাফুল হক শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবি জানিয়ে বলেন, ‘পুরো বাংলাদেশের কাছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি ‘ছি ছি’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শিক্ষকরা পদোন্নতির জন্য আন্দোলন করছেন বা ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখছেন—এটি খুবই হতাশাজনক এবং সবার কাছে একটি নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বছর ধরে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি বন্ধ থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
তিনি আরো বলেন, ‘সাবেক ভিসি ইউজিসির একটি অনিষ্পন্ন চিঠিকে কেন্দ্র করে একের পর এক মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু কথা ঘোরানোর কারণে তিনি আমাদের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। এখান থেকেই সংকটের মূল সূত্রপাত। স্যার, আপনার যোগ্যতা ও পদের মর্যাদা অনুযায়ী আমাদের দাবি খুব বেশি নয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুল আলিম বছির নবনিযুক্ত ভিসিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সার্বিক সহায়তার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: আবদুল আলিম বছির, সহকারী অধ্যাপক উন্মেষ রায়, সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক মো: আবু জিহাদ, সহকারী অধ্যাপক মো: হাসিবুর রহমান হাসিব, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: শফিউল আলম, সহযোগী অধ্যাপক ড. সুব্রত কুমার, সহযোগী অধ্যাপক ড. রহিমা নাসরিন, সহকারী অধ্যাপক মো: সিরাজিস সাদিক, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: রাহাত হোসাইন ফয়সাল, সহযোগী অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. সাদেকুর রহমান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মো: মামুন অর রশিদ সঙ্কটের সমাধান ও পদোন্নতি জটিলতা নিয়ে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের রোডম্যাপ অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টি বিধি মোতাবেক সমাধান করা হবে।’



