ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ‘কেমন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল চাই’ শীর্ষক এক বিশেষ উন্নয়ন সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এ সংলাপের আয়োজন করে বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স কল্যাণ ফোরাম।
বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স কল্যাণ ফোরামের সভাপতি এবং সিনিয়র সচিব (পিআরএল) ড. খ ম কবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান এমপি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন ভিসি প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।
এ সময় কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাব, জিয়া পরিষদ, সাদা দল ও শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীসহ কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সবাই স্বপ্নের পাহাড় নিয়ে এসেছেন। সেই স্বপ্ন, চিন্তা ও শ্রম প্রথমে শৈলকূপা ও পরে এ অঞ্চলের জন্য। কারণ সবার আগে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়ার জন্য করতে পারলে বাংলাদেশকেও কিছু দেয়া যাবে। এক্ষেত্রে এ অঞ্চলের সুবিধার্থে রেললাইন বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় পদ্মাসেতু তৈরিতে কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, শিল্পায়নে প্রভাব পড়বে কি-না, তা ভাবছি। এছাড়া এ অঞ্চলের কৃষি বিপ্লব ঘটাতে বিদ্যুতের চাহিদা, দাম, তেল আমদানির বিকল্পে প্রত্যেক জেলায় পতিত জমির সদ্ব্যবহার করে সৌর বিদ্যুৎভিত্তিক প্রজেক্ট চালু করব। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমানতা দেখতে পাব।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দোষারোপের রাজনীতি থেকে বের হতে চাই। রাজনৈতিক বিরোধ এটা আদর্শিকভাবে থাকবেই। এজন্য হানাহানি, রক্তপাত এটা থাকবেই। কিন্তু আমাদের চিন্তার ঐক্য, আমাদের ভাবনা, সবার ভাবনা কিন্তু এই অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন নিয়ে। এখানে আমাদের চিন্তার ঐক্য আছে। এই উন্নয়নের ঐক্যকে ধারণ করেই আমরা একে অন্যের সাথে হাত মিলিয়ে এগিয়ে যাব। আমরা সঠিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছি, সে উদ্যোগের পথ ধরে হেঁটে যেতে চাই। সর্বোপরি আমরা এ অঞ্চলের ন্যায্য হিস্যা চাই। অবহেলিত জনপদের ভালো ও সুখের জন্য যা করণীয় তা আমরা করে যাব।’
এছাড়া বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে করণীয় বিভিন্ন দিক নিয়ে সংলাপে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ ধরনের সংলাপ নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সমন্বয় সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



