জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতিতে গুপ্ত লেখার জেরে চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার সকালে একদফা সংঘর্ষের পর প্রতিবাদে বিকেলে নিউ মার্কেট মোড়ে সমাবেশের ঘোষণা দেয় ছাত্রশিবির। সমাবেশের প্রস্তুতির সময় হঠাৎ ছাত্রদলের একটি গ্রুপ ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে এক শিবিরকর্মীর পায়ের গোড়ালির পেছনের অংশ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আরো কয়েকজন রক্তাক্ত জখম হয়। পরে শিবির কর্মীরা জড়ো হয়ে ধাওয়া দিলে হেলমেট পরা ছাত্রদল নেতাকর্মীরা পিছু হটে। এসময় ছাত্রদলের কয়েকজনের হাতে উন্মুক্ত কিরিচ বা চাপাতি দেখা যায়।
বিকাল চারটার সময় কলেজ গেট ও নিউ মার্কেট এলাকা উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হলেও পুলিশ ছিল নির্বিকার। এসময় শিবিরের কয়েকজন নেতাকে পুলিশের প্রতি ক্ষোভ ঝাড়তে এবং নেতাকর্মীদেরকে শান্ত করতে দেখা যায়। এ পরিস্থিতিতে কলেজের ক্লাস ও নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ ও মাস্টার্সের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জানা গেছে, কলেজের ভবনের দেয়ালে একটি গ্রাফিতি রয়েছে, যার নিচে লেখা ছিল ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’। গতকাল সোমবার রাতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী সেখানে গিয়ে গ্রাফিতি থেকে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দেন। এর পরিবর্তে ওপরে লিখে দেন ‘গুপ্ত’। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে বাগবিতণ্ডার জেরে প্রথম দফায় সংঘর্ষে জড়ান ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা।
পরে বিকেল ৪টার দিকে নিউ মার্কেট এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছিল ছাত্রশিবির। এ সময় হঠাৎ ছাত্রদলের একটি গ্রুপ বহিরাগতদের সহায়তায় ধারালো কিরিচ দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়। কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে দুই পক্ষ একে অন্যকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন।
বিকাল সোয়া চারটার দিকে দুটি রিকশায় দুইজন রক্তাক্ত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালের দিকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। সহায়তাকারী তরুণদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আহতরা ছাত্রশিবিরের কর্মী, ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলায় আহত হয়েছেন। এ সময় একজনের পায়ের গোড়ালি প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখা যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম পাওয়া যায় নি। এর কিছুক্ষণ পর শিবিরের নেতারা নিউ মার্কেট মোড়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের সামনে অস্ত্র হাতে ও হেলমেট পরিহিত ছাত্রদল ক্যাডাররা
ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী দক্ষিণের প্রচার সম্পাদক জাহিদুল আলম জয় নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘সিটি কলেজে ছাত্রদলের নামে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে আমাদের কর্মীদের ওপর চাপাতি, রড, লাঠিসোটা দিয়ে হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। চাপাতির কোপে একজনের পায়ের গোড়ালি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আপনারা তা নিজ চোখেই দেখেছেন।’
কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সৈয়দ সিদ্দীকি রনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শিবিরের নেতা-কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করেছে। এতে আমাদের কয়েকজন আহত হয়েছেন। শিবির এখানেও গুপ্ত রাজনীতি করতে চায়।’
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে’
এদিকে এঘটনার প্রতিবাদে রাত আটটায় নগরীর পার্কভিউ হসপিটালে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখা। এতে শিবির নেতারা অতর্কিত হামলার জন্য ছাত্রদলের বহিরাগতদের দায়ি করেন। হামলায় ১০-১৫জন সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিবিরের কর্মী আহত হয়েছেন, একজনের পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানান। এসময় তারা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান।



