শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং গুজব রোধে সাইবার নজরদারি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কোনো চক্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
আজ মঙ্গলবার এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে রাজধানীর মিরপুর ও মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর এলাকার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্নফাঁসকারী বা গুজব রটনাকারীরা যে ধরনের আধুনিক যন্ত্র বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তা প্রতিহত করার মতো উন্নত কারিগরি সক্ষমতা ও টেকনিক্যাল হ্যান্ড আমাদের রয়েছে। সাইবার ক্রাইম স্পেশালিস্টদের সাথে আমরা নিয়মিত সমন্বয় করছি।’
তিনি আরো জানান, প্রশ্নপত্র পরিবহন ও ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট সবার মোবাইল নম্বর সাইবার ক্রাইম অথরিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যদি কোথাও কোনো অপ্রীতিকর বা সন্দেহজনক ঘটনা ঘটে, তবে আমাদের সাইবার টিম মুহূর্তের মধ্যেই ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সেই লোকেশন শনাক্ত করতে সক্ষম। আমরা সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি।’
এ বছরই প্রথমবারের মতো প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং প্রশ্নপত্র পরিবহনে ‘ডিজিটাল ট্র্যাকিং’ পদ্ধতি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে ড. মিলন বলেন, ‘আমি সশরীরে কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছি। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে ফুটেজগুলো ডিজিটাল ড্রাইভে সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে কোনো অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।’
কারিকুলাম ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কারিকুলাম নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সরাসরি সুপারভিশন শুরু করেছি। সামনের দিনগুলোতে এটি ননস্টপ (ধারাবাহিক) চলবে। আমরা ক্লাসরুম লেভেলে গিয়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করছি।’
আকস্মিক কেন্দ্র পরিদর্শনের কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি আগে থেকে জানিয়ে বা প্রোটোকল নিয়ে কেন্দ্রে যেতে চাই না। তাতে প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায় না। আমি সরাসরি ক্লাসরুম ও বাথরুমের পরিবেশ পর্যন্ত দেখছি, যাতে আমাদের আগামী দিনের ত্রুটিগুলো সংশোধন করা সহজ হয়।’
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র নয় লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী নয় লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।
উল্লেখ্য, সরকার প্রশ্নপত্র বিতরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের পাশাপাশি গুজব রোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও কঠোর নজরদারি বজায় রাখছে।



