শাবিপ্রবিতে সক্রিয় প্রতারক চক্র, শিক্ষার্থীর বাবার থেকে নিয়েছে ৫ লাখ টাকা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) সক্রিয় এক প্রতারক চক্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বাবা থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

হোসাইন ইকবাল, শাবিপ্রবি

Location :

Sylhet
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) |নয়া দিগন্ত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) সক্রিয় এক প্রতারক চক্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বাবা থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

গত মঙ্গলবার (১২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন নাবিলের বাবাকে ফোন দিয়ে ফাঁদে ফেলে প্রতারক চক্রের সদস্যরা। এ সময় বিকাশের মাধ্যমে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তারা।

ঘটনার বর্ণনায় ব্যবসায় প্রশাসর বিভাগের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন নাবিল বলেন, গত মঙ্গলবার দুপুরে একটি অচেনা নাম্বার থেকে আমার বাবার ফোনে কল দেয়া হয়।

কলদাতা জানায়, আমাকে ভার্সিটি গেইট থেকে আটক করা হয়েছে এবং আমার কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে। এছাড়াও তারা বলে, আমার ফোনে নাকি জুয়ার অ্যাপ পাওয়া গেছে।

এরপর তারা আমার বাবাকে ভয় দেখাতে থাকে যে দ্রুত টাকা না দিলে আমাকে ধরে নিয়ে যাবে এবং পুরো বিষয়টি সব জায়গায় ছড়িয়ে দেবে। এমনকি কয়েকটা ছেলের কান্নার শব্দ শোনায় যে ওরা আমাদের মারতেছে। পরিস্থিতি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যে, আমার বাবা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং আমাকে একবারও কল করার সুযোগ পাননি।

ভয় ও মানসিক চাপের কারণে আমার বাবা কয়েকটি দোকান থেকে মোট ৪,৮০,০০০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন।

কিছুক্ষণ পরে বাবা আমাকে কল দিলে জানতে পারেন যে আমি আসলে উতমাছড়া ঘুরতে এসেছি এবং পুরো ঘটনাটিই একটি প্রতারণা ছিল। এমতাবস্থায় রাজনগর থানায় জিডি করা হইছে এবং সাইবার ট্রাইবুনালে মামলা করার কথা ভাবছি।

এই সম্পূর্ন ঘটনা আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গ্রুপ সাস্টিয়ান ভয়েসে পোস্ট করলে কমেন্ট বকস থেকে জানতে পাড়ি আগে এইরকম প্রতারণা আরো অনেকর সাথে করার চেষ্টা করা হইছে। কিন্তু তারা সচেতন থাকায় প্রতারণা থেকে বেঁচে যায়।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানার সাব ইন্সপেক্টর অরুপ সরকার বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতারক চক্রটি নকল এনআইডি কার্ড দিয়ে সিম ক্রয় করে ব্যবহার করছে। এজন্য আমরা বিকাশ স্টেটমেন্টের জন্য আবেদন করেছি। স্টেটমেন্ট পেলেই আমরা পরবর্তী কাজ শুরু করবো ও অপরাধীদের শনাক্তে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে তাকে কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে ও পরবর্তীতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’