শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের ‘স্টুডেন্ট ভিসা’ প্রদান প্রক্রিয়া আরো সহজতর করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
আজ রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেস্ট ফিউচার জেনারেশনস’ বিষয়ক বিশেষ দূত চার্লস জে হার্ডার সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান।
বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সাক্ষাৎকালে বিশেষ দূত চার্লস জে হার্ডার বলেন, বাল্যবিবাহ, শিশু নির্যাতন ও পুষ্টিহীনতার মতো বৈশ্বিক সমস্যাগুলো সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশে ‘স্কুল মিল’ ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য সামাজিক খাতে সহযোগিতার পরিধি আরো বিস্তৃত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে সরকারের শিক্ষা ভাবনার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার উৎকর্ষ বৃদ্ধি এবং শিক্ষাকে আনন্দময় করে তোলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশে ‘মিড-ডে মিল’ চালু, শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম প্রদান, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি ও স্কুলগুলোতে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’
ড. এহছানুল হক মিলন জানান, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে, প্রতিটি বিদ্যালয়ে ক্রীড়া ও কৃষি শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ সময় তিনি বাংলাদেশের ইংরেজি শিক্ষার উন্নয়নে প্রশিক্ষণ সহযোগিতার ক্ষেত্র আরো বিস্তৃত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রতিনিধি দলটি সামাজিক খাত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বৈঠকে ভবিষ্যতে দুই দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে বলে উভয়পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো: মাসুদ রানা ও বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।
সূত্র : বাসস



