ধানমন্ডিতে ভবন থেকে ফেলে ব্যবসায়ী মোকাব্বর অর্ণব ইসলামকে (৩৩) হত্যার অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে। তিনি তার বাবার একটি স্কুল দেখাশোনাসহ অন্য ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, ডিপ্রেশনের দোহাই দিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কেউ হত্যা করেছে মোকাব্বর ইসলামকে।
শনিবার (২ মে) রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় একটি বহুতল ভবনের নিচ থেকে ওই ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহতের খালা শাহনাজ বেগম বলেন, শনিবার দুপুরে দিকে আমরা জানতে পারি মোকাব্বরকে ধানমন্ডির ১১ নম্বর রোডের ৩১ নম্বরের নিজ বাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তাকে কেউ হত্যা করে নিচে লাশ ফেলে গেছে। তাকে কারা হত্যা করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মোকাব্বর কয়েক দিন যাবৎ ভয় পাচ্ছে বলে আমাদেরকে জানিয়েছে। তাকে কেউ পেছন থেকে ফলো করছে এমন তথ্যও দিয়েছে। তবে তার সাথে কারো ঝামেলা চলছিল কি না সে কারো নাম বলেনি। কয়েক দিন আগে তার নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাকে কটুক্তি করে কথা বলেছে। তখন তার চাচা ওসমান গণি সামনে থাকলেও কিছু বলেননি। এতে সে মনে কষ্ট পেয়েছে। এরপর গত বৃহস্পতিবার তার চাচা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেন। তার চাচার কথাও সে কষ্ট পেয়েছেন। বিষয়টি আমাকে জানিয়ে চিকিৎসেকের কাছে যায় সে। শুক্রবার টেস্ট রিপোর্ট আসার পর সবই স্বাভাবিক ছিল। তার শারীরিক কোনো সমস্যা ছিল না।
নিহতের খালা বলেন, সে বিয়ে করার জন্য কথাবার্তা বলছিল।
তিনি আরো বলেন, তার বাবার সাথে মায়ের ডিভোর্স হয়ে যায়। তারপরও তার মায়ের সাথে সম্পর্ক ভালো ছিল। হঠাৎ কি হতে কি হয়েছে তা জানি না।
তার সাথে কারো বিরোধ থাকতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে বলে যায়নি। ১১ তলা থেকে নিচে পড়লে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত থাকার কথা কিন্তু তেমন কোনো ক্ষত ছিল না। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ভবনের নিচে ফেলে রাখা হতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ রাজিব হোসেন জানান, আমরা খবর পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় ধানমন্ডির ওই বাসায় এ ও বি–ফ্ল্যাটের মাঝখানের ফাঁকা জায়গার কংক্রিটের উপর থেকে মোকাব্বরের লাশ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
জানা গেছে, নিহতের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল থানার আকুবপুর গ্রামের মরহুম রফিকুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে ধানমন্ডি ১১ নম্বর রোডের ৩১ নম্বর নিজ বাসায় থাকতেন। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। বড় বোন লন্ডন প্রবাসী। আর ছোট বোন ধানমন্ডিতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন।



