দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে পদ্মা সেতুতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পবিত্র ঈদুল আজহায় ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রাকে অধিকতর নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও যানজটমুক্ত করতে ইটিসি লেন চালু করা হয়। যা ব্যবহার করে পদ্মা সেতু দিয়ে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পেরেছেন যাত্রীরা।
এতে করে সোমবার (২২ মে) থেকে রোববার (৩১ মে) পর্যন্ত ১০ দিনে পদ্মা সেতুতে ইটিসি লেন ব্যবহার করে মোট চার হাজার ২৪২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। যা থেকে টোল আদায় হয়েছে ৬৯ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫০ টাকা।
বর্তমানে পদ্মা সেতুতে নিবন্ধিত ইটিসি যানবাহনের সংখ্যা ৮৭০টি। ইটিসি ব্যবস্থা চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩৮ হাজার ৯৪০টি যানবাহন এই সুবিধা গ্রহণ করেছে। এতে মোট ছয় কোটি ৯৬ লাখ ৬০ হাজার ৯৫০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপ পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: মাসুদ রানা শিকদারের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈদের মৌসুমে টোল প্লাজায় দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সেতু কর্তৃপক্ষ বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকে। ইটিসি লেন চালুর পর থেকে পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ৩৮ হাজার ৯৪০টি যানবাহন ইটিসি লেন ব্যবহার করেছে। যা থেকে ছয় কোটি ৯৬ লাখ ৬০ হাজার ৯৫০ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়েছে। ইটিসি লেনের মাধ্যমে যানবাহনগুলো টোল প্লাজায় না থেমে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করতে পেরেছে। যা আধুনিক সড়ক ব্যবস্থাপনায় এক মাইলফলক।
এই ঈদে ঈদযাত্রার সাফল্যে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নিবিড় মনিটরিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সকল প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালন, পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সচেতনতা ও সাধারণ যাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার কারণেই এই প্রযুক্তিগত সুবিধা শতভাগ কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনে যাত্রীসাধারণের এই নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে পারায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সকল টোল সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, টানেল ও অন্যান্য স্থাপনায় বিদ্যমান ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) সিস্টেমসমূহকে একক, অভিন্ন ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সচিব, সেতু বিভাগকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদফতর, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন কতিপয় সড়ক, সেতু ও ফ্লাইওভারে ইটিসি ব্যবস্থা চালু থাকলেও এগুলো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ। এসব টোলপ্লাজায় ব্যবহৃত হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার যেমন ভিন্ন, তেমনি টোল পরিশোধের মাধ্যমেও ভিন্নতা রয়েছে। এ সকল ভিন্নতার কারণে ব্যবহারকারী জনসাধারণকে বিভিন্ন স্থাপনা অতিক্রমের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হচ্ছে। এতে ব্যবহারকারী জনসাধারণ ইটিসি ব্যবস্থার স্বাচ্ছন্দ্য ও কাঙ্ক্ষিত সুফল হতে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিচ্ছিন্ন এই ইটিসি ব্যবস্থাগুলো একক, অভিন্ন ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে এই কমিটি কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তদারকিতে দ্রুততম সময়ে জনসাধারণকে একটি ব্যবহারবান্ধব ইটিসি সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।



