নির্মাণের পর ছয় বছর থেকে অলস পড়ে থাকা রংপুর মা ও শিশু হাসপাতালটি অবশেষে চালু হচ্ছে। রোববার (৩১ মে) দুপুরে হাসাপাতালটির অবাকাঠামোসহ সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন।
তিনি জানান, ‘দেশের শুধু ছয়টি শিশু হাসপাতালই নয়, স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরণের আরো অনেক স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো চালু হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালায়কে সেগুলো চালু করার নির্দেশ দেন। এছাড়াও মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরেজমিনে পরিদর্শন করে রিপোর্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা রংপুরে আসলাম পুরো টিম নিয়ে এসেছি। পুরো ভবনটি আমি পরিদর্শন করলাম। এটা একটা সুন্দর স্থাপনা। এটি চালু করা গেলে রংপুর বিভাগের শিশু চিকিৎসায় মানুষ উপকৃত হবেন।
ডা. নাজমুল আরো জানান, ‘সরকারি যেকোনো জিনিস চালু করতে গেলে প্রশাসনিক কিছু জটিলতা থাকে। কিন্তু কিভাবে সেটি সমাধান করা যায়। সেটির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথাও বলেছি। এ বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় গিয়ে মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দিব। আমি আশাবাদী যেহেুত সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জোড়ালো ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন, সেহেতু হয়তো খুব অচিরেই আমরা এই প্রতিষ্ঠানটি চালু করতে পারবো।‘
তিনি বলেন, ঠাঁকুরগাঁওয়ে যে পুরোনো ক্যাম্পাস আছে সেখানেই আশা করছি, আগামী বছর থেকে মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী ভর্তির কাজ শুরু করা যাবে। একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা ভবন নির্মাণ করতে চাই। যাতে ভবন নির্মাণ হলো চালু করা গেলো না এমনটি না হয়।’
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর সূত্র জানায়, ছয় বছর আগে সদর হাসপাতালের ১ একর ৭৮ শতাংশ জমিতে ৩১ কোটি ৪৮ লাখ ৯২ হাজার ৮০৯ টাকা ব্যয়ে তিনতলা হাসপাতাল ভবন ও আবাসিক কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু দাফতরিক জটিলতায় অলস আছে ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল। করোনাকালীন সময়ে এটি বিশেষ ব্যবস্থায় চালু করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ১০ মে রংপুরসহ দেশের ছয়টি এ ধরনের হাসাপাতাল চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য আগামী ২ জুনের মধ্যে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় মহা-পরিচালক রংপুরে শিশু হাসপাতালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করলেন সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের মহা-পিরচালক, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকসহ স্বাস্থ্যের কর্মকর্তারা।



