ময়মনসিংহে যুবককে গলাকেটে হত্যা, গ্রেফতার ৩

২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে সুমনকে মোবাইলফোনে ডেকে অষ্টধার সেনপাড়া এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একসাথে গাঁজা সেবনের সময় পুনরায় টাকার প্রসঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Mymensingh
হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার তিন অভিযুক্ত
হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার তিন অভিযুক্ত |নয়া দিগন্ত

মাদক কারবারের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে ময়মনসিংহে মো: সুমন মিয়া (৩৫) নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় মূল তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। ঘটনার নেপথ্যে মাদকচক্রের দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেফতার তিনজন হলেন— ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অষ্টধার কুঠুরাকান্দা গ্রামের মো: আহাদ আলীর ছেলে মো: সজিব আলী (২০), অষ্টধার ভিটাপাড়া গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে নাজমুল ইসলাম (২৫) ও একই গ্রামের মাহিন মিয়ার ছেলে শিহাব মিয়া ওরফে শিপন (১৬)।

পুলিশ জানায়, নিহত সুমন মিয়া একই গ্রামের আমছর আলীর ছেলে। তিনি ও গ্রেফতারকৃত সবাই দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার ও সেবনের সাথে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সজিব আলীর সাথে সুমনের বিরোধ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে তাকে ‘শিক্ষা দেয়ার’ পরিকল্পনা নেয় অভিযুক্তরা।

তদন্তে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে সুমনকে মোবাইলফোনে ডেকে অষ্টধার সেনপাড়া এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একসাথে গাঁজা সেবনের সময় পুনরায় টাকার প্রসঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সজিব ও তার সহযোগীরা ধারালো ছুরি দিয়ে সুমনের গলা, ঘাড়, বুক ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পরে লাশটি স্থানীয় সাহেব বাড়ির পাশের একটি ধানক্ষেতের সেচ নালায় ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা পরদিন লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

এ ঘটনায় নিহতের মামা মাহিন হোসেন কোতোয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘গ্রেফতার হওয়া তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘গ্রেফতার কিশোর শিহাব মিয়া ওরফে শিপনকে আদালতের নির্দেশে গাজীপুর কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।’

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় এমন নৃশংস ঘটনা ঘটছে। সচেতন মহল মনে করছে, মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা না গেলে এ ধরনের অপরাধ থামানো কঠিন হবে।