জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর এলাকার খামারি রফিকুলের খামারে বেড়ে ওঠা গরু নাম ‘জমিদার’। ওজন ৩৪.৮৩ মণ। রাজকীয় গড়ন আর বিশাল দেহের জন্যই খামারি রফিকুল ইসলাম বিশাল আকৃতির এই গরুর নাম রেখেছেন ‘জমিদার’।
ওজন এক হাজার ৩০০ কেজি, অর্থাৎ ৩৪.৮৩ মণ। দ্রুতই কোরবানির হাটে তোলা হবে বিশালদেহী এই গরুটি। তবে তার আগেই গরুটি দেখতে খামারে ভিড় করছেন হরেকরকম মানুষ।
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের গ্রামের হাবিবুর রহমান কলেজ পাড়ার খামারি রফিকুল ইসলামের খামারে বেড়ে উঠেছে ফিজিয়ান জাতের এই গরু।
সরেজমিনে খামারে গিয়ে দেখা যায়, জমিদার শুধু আকারেই বড় নয়, তার জীবনযাপনও একেবারে রাজকীয়।
খামারি রফিকুল ইসলাম জানান, জমিদারের খাবারের পেছনে প্রতিদিন খরচ হয় প্রায় দুই হাজার টাকা।
বাসী খাবার সে একদমই খায় না। প্রতিবারিই চাই টাটকা খাবার। এ কারণেই প্রাণিটির নাম রাখা হয়েছে ‘জমিদার’।
রফিকুল আরো জানান, চার বছর আগে খামারের একটি গাভীর পেটে তার গোয়ালঘরেই জন্মে ছিল জমিদার।
ছোটবেলা থেকেই গোয়ালঘরে নিজের সন্তানের মতোই লালন-পালন করা হয়েছে তাকে। বর্তমানে গরুটি গোয়ালঘর থেকে বাইরে বের করতে হলে ঘরের দেওয়াল ভাঙতে হবে।
খামারি রফিকুল জানান, ‘প্রতিদিন জমিদার খাওয় ও অন্যান্য প্রয়োজনে ব্যয় হয় প্রায় দুই হাজার টাকা। খাবারের তালিকায় রয়েছে কলা, হাঁসের ডিম, দেশি ঘাস, ভুট্টা ও গমের ভুষি। প্রতিদিন ঠান্ডা পানি ও শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করাতে হয়।
গত বছর ছয় লাখ দাম উঠেছিল ২০ হাজার টাকা। খরচ না উঠার কারণ বিক্রি করেননি সফল খামারি রফিকুল। তা ছাড়া আরো বড় করে বিক্রি করার ইচ্ছাও ছিল তার। এবার ভালো দাম পেলেই বিক্রি করেবেন বলে নয়া দিগন্তকে জানান রফিকুল।’
রফিকুলের স্ত্রী রোজিনা বেগম বলেন, ‘সন্তানের মতো করেই বড় করেছি গরুটি। এখন বিক্রির কথা শুনলেই বুকটা কেঁপে ওঠে। কারণ পরিবারের সবাই মিলে তার যত্ন নিয়েছি। বিক্রিতো করতেই হবে। নিজে কন্যা কেউ কত আদর যত্নে লালনপালন করা হয়, কিন্তু সময় হল আর ঘরে রাখা যায় না এমনই। তবে ভালো দামে বিক্রি করতে চাই, যাতে আমাদের কিছু লাভ হয়। বাড়ি থেকেই গরুটি বিক্রি হলে আমাদের উপকার হবে।’
প্রতিবেশি মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, ‘এমন বিশাল দেহের গরু আমাদের এলাকায় মানুষ আগে কখনো হয়নি।
গরুটি লালন পালন করেছেন রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী। অনেক কষ্ট করেই লালন পালন করেছেন। একটু বেশি দামে বিক্রি করতে পারলে তার পরিবার ভালো থাকতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানায়, এলাকায় এর আগে এত বড় গরু হয়নি। তাই প্রতিদিনই মানুষ আসেছ (জমিদার) গরুটিকে দেখতে।
তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে জমিদার তার মালিক রফিকুল ও পরিবারের সদস্যদের ভাষা বুঝতে পারে এবং সাড়াও দেয় বলে জানান দর্শনার্থীরা।
দাঁত দেখাতে বললে দাঁত দেখায়, ডাক দিলেই সাড়া দেয়। এসব কারণেই মানুষ বেশি ভিড় করছেন জমিদারকে দেখতে। স্থানীয়রা বলছেন এ যেন এক অলৌকিক ঘটনা।
জামালপুরের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: বলেন, ‘ছোট খামারিরাও এখন বড় আকৃতির গরু পালন করে লাভবান হচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে গরুটির নিয়মিত খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে অনলাইনে পশু বিক্রির প্লাটফর্ম চালু রয়েছে। এছাড়া জেলায় বিভিন্ন পশুর হাটও রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো: ছনোয়ার হোসেন জানান, এ বছর কোরবানির জন্য জেলায় গবাদি পশু রয়েছে এক লাখ সাত হাজার ৬৫টি। জেলার জন্য চাহিদা ৮২ হাজার। বাকি ২৩ হাজার পশু দেশের বিভিন্ন জায়গায় রফতানি করা হবে।



